দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী কাঠামোর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত রোববার এই খসড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই আইনের ওপর সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। খসড়ার বিষয়ে কোনো পরামর্শ বা মতামত থাকলে তা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার এবং সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই খসড়া আইনে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনের খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা সংক্রান্ত প্রচলিত আইনগুলোকে আরও সংহত, কার্যকর এবং সমন্বিত করা প্রয়োজন। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি সর্বজনীন শিক্ষাকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধানগুলোর সম্পূরক হিসেবে এই নতুন আইনটি কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইনটি পাস হলে দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের বিরাজমান অসংগতিগুলো দূর হবে এবং একটি সুসংগঠিত আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























