ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পার্শ্ব চরিত্রে জয় করে এবার প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন আইনুন পুতুল

বাংলাদেশের অভিনয় জগতে এক আলোচিত নাম আইনুন পুতুল। মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক এবং সিনেমার পর্দায় তিনি বরাবরই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ব চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করলেও, এবার ‘সাঁতাও’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেছেন ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা। এই প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও প্রতিভার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় কে.এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) পরিচালিত ‘সাঁতাও’ সিনেমায় আইনুন পুতুলের অনবদ্য অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। এর আগে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘বৃহন্নলা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘ব্ল্যাক ওয়্যার’, ‘বিলডাকিনী’ এবং ‘রাতজাগা ফুল’ এর মতো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

এই অসামান্য অর্জনে আইনুন পুতুল তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “পুরস্কারের খবর শোনার পর থেকে আমার মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। এই সম্মাননা আমার কাছে অমূল্য। আমার বাবার কথা ভীষণ মনে পড়ছে, তিনি আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন। আমার অসুস্থ মায়ের জন্য এই প্রাপ্তি একটি বড় সান্ত্বনা।” তিনি জুরি বোর্ডের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ‘সাঁতাও’ সিনেমার পরিচালক খন্দকার সুমনসহ পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানান তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার জন্য।

উল্লেখ্য, ‘সাঁতাও’ সিনেমার পরিচালক খন্দকার সুমনও এই বছর শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। আইনুন পুতুল ২০০৪-২০০৫ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে নাটকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রে পিএইচডি করছেন।

২০০৬ সালে বাংলাভিশনে প্রচারিত ‘ঘাটের কথা’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা হয়। এই নাটকে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র কুসুমের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিম আল দীনের সঙ্গে কাজ করার। ২০১২ সাল থেকে তিনি নাটকের দল ‘আরশী নগর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হিসেবে যুক্ত আছেন এবং এই দলের হয়ে মঞ্চে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। আইনুন পুতুল ও তাঁর স্বামী রফিকের একমাত্র কন্যা রাজকন্যা মেঘবতী। তাঁর বাবা প্রয়াত এস এম আনোয়ারুল কবির এবং মা নূরুন্নাহার কবির।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন ঘাঁটিতে নজরদারিতে চীনের গোপন স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান

পার্শ্ব চরিত্রে জয় করে এবার প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন আইনুন পুতুল

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের অভিনয় জগতে এক আলোচিত নাম আইনুন পুতুল। মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক এবং সিনেমার পর্দায় তিনি বরাবরই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ব চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করলেও, এবার ‘সাঁতাও’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেছেন ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা। এই প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও প্রতিভার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় কে.এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) পরিচালিত ‘সাঁতাও’ সিনেমায় আইনুন পুতুলের অনবদ্য অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। এর আগে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘বৃহন্নলা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘ব্ল্যাক ওয়্যার’, ‘বিলডাকিনী’ এবং ‘রাতজাগা ফুল’ এর মতো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

এই অসামান্য অর্জনে আইনুন পুতুল তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “পুরস্কারের খবর শোনার পর থেকে আমার মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। এই সম্মাননা আমার কাছে অমূল্য। আমার বাবার কথা ভীষণ মনে পড়ছে, তিনি আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন। আমার অসুস্থ মায়ের জন্য এই প্রাপ্তি একটি বড় সান্ত্বনা।” তিনি জুরি বোর্ডের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ‘সাঁতাও’ সিনেমার পরিচালক খন্দকার সুমনসহ পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানান তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার জন্য।

উল্লেখ্য, ‘সাঁতাও’ সিনেমার পরিচালক খন্দকার সুমনও এই বছর শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। আইনুন পুতুল ২০০৪-২০০৫ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে নাটকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রে পিএইচডি করছেন।

২০০৬ সালে বাংলাভিশনে প্রচারিত ‘ঘাটের কথা’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা হয়। এই নাটকে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র কুসুমের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিম আল দীনের সঙ্গে কাজ করার। ২০১২ সাল থেকে তিনি নাটকের দল ‘আরশী নগর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হিসেবে যুক্ত আছেন এবং এই দলের হয়ে মঞ্চে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। আইনুন পুতুল ও তাঁর স্বামী রফিকের একমাত্র কন্যা রাজকন্যা মেঘবতী। তাঁর বাবা প্রয়াত এস এম আনোয়ারুল কবির এবং মা নূরুন্নাহার কবির।