ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ভোটের মাঠে সুরের মূর্ছনা: ডিজিটাল প্রচারে গানই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান হাতিয়ার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উৎসবের হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় রাজপথের পাশাপাশি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষ করে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এখন বেছে নিয়েছেন সংগীতকে। সুর আর ছন্দের জাদুতে দলীয় প্রতীক ও আগামীর প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জনমানুষের দোরগোড়ায়। সংগীত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর কৌশল, যা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ শীর্ষক একটি বিশেষ গান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ার আবেগ ও গ্রামবাংলার আবহ তুলে ধরা হয়েছে এই সংগীতে। গানটিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুক্তির পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক লক্ষ দর্শক এটি উপভোগ করেছেন। এছাড়া দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসের মতো সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রচারণামূলক গান তৈরি করছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় নাশিদ বা গজলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে কেন্দ্র করে তৈরি একটি গজল ইতিমধ্যে ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হয়েছে। ন্যায়বিচার ও আদর্শিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে তৈরি এই সংগীতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, দলটির স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় সুরের মাধ্যমে নির্বাচনি বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই গানগুলো নিয়ে লক্ষ লক্ষ ছোট ভিডিও বা ‘রিলস’ তৈরি হচ্ছে, যা প্রচারণাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণায় সবাইকে চমকে দিয়েছে। তাদের ‘শাপলা কলি’ শিরোনামের গানটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে তৈরি এই গানটি দলটির প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া দলটির শীর্ষ নেতাদের নামে আলাদা আলাদা থিম সং তৈরি করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে দিতে পিছিয়ে নেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। ভোটারদের সচেতন করতে এবং নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে আটটি বিভাগের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় আটটি ভিন্ন গান তৈরি করা হয়েছে। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের কণ্ঠে একটি সচেতনতামূলক গান ভোটারদের মাঝে বেশ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। যেখানে ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে তৈরি গানগুলোও নিজ নিজ বলয়ে বেশ আলোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগীতের মাধ্যমে এই প্রচারযুদ্ধ নির্বাচনি মাঠকে যেমন রঙিন করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বার্তাগুলো সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, সুরের এই লড়াই এবারের নির্বাচনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

ভোটের মাঠে সুরের মূর্ছনা: ডিজিটাল প্রচারে গানই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান হাতিয়ার

আপডেট সময় : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উৎসবের হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় রাজপথের পাশাপাশি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষ করে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এখন বেছে নিয়েছেন সংগীতকে। সুর আর ছন্দের জাদুতে দলীয় প্রতীক ও আগামীর প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জনমানুষের দোরগোড়ায়। সংগীত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর কৌশল, যা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ শীর্ষক একটি বিশেষ গান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ার আবেগ ও গ্রামবাংলার আবহ তুলে ধরা হয়েছে এই সংগীতে। গানটিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুক্তির পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক লক্ষ দর্শক এটি উপভোগ করেছেন। এছাড়া দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসের মতো সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রচারণামূলক গান তৈরি করছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় নাশিদ বা গজলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে কেন্দ্র করে তৈরি একটি গজল ইতিমধ্যে ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হয়েছে। ন্যায়বিচার ও আদর্শিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে তৈরি এই সংগীতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, দলটির স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় সুরের মাধ্যমে নির্বাচনি বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই গানগুলো নিয়ে লক্ষ লক্ষ ছোট ভিডিও বা ‘রিলস’ তৈরি হচ্ছে, যা প্রচারণাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণায় সবাইকে চমকে দিয়েছে। তাদের ‘শাপলা কলি’ শিরোনামের গানটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে তৈরি এই গানটি দলটির প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া দলটির শীর্ষ নেতাদের নামে আলাদা আলাদা থিম সং তৈরি করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে দিতে পিছিয়ে নেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। ভোটারদের সচেতন করতে এবং নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে আটটি বিভাগের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় আটটি ভিন্ন গান তৈরি করা হয়েছে। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের কণ্ঠে একটি সচেতনতামূলক গান ভোটারদের মাঝে বেশ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। যেখানে ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে তৈরি গানগুলোও নিজ নিজ বলয়ে বেশ আলোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগীতের মাধ্যমে এই প্রচারযুদ্ধ নির্বাচনি মাঠকে যেমন রঙিন করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বার্তাগুলো সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, সুরের এই লড়াই এবারের নির্বাচনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।