ফিলিস্তিনের বর্তমান মর্মান্তিক বাস্তবতাকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছে তিউনিসিয়ার চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব premiere-এর পর বিপুল প্রশংসিত এই সিনেমাটি এবার আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস (অস্কার)-এর চূড়ান্ত মনোনয়ন লাভ করে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। আগামী ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৯৮তম অস্কার আসরের জন্য ‘সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ বিভাগে এই ছবিটি স্থান করে নিয়েছে।
গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় তিউনিসিয়ার এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে। ‘সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আরও চারটি দেশ: ব্রাজিল (দ্য সিক্রেট এজেন্ট), ফ্রান্স (ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট), নরওয়ে (সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু) এবং স্পেন (সিরাত)।
এ বছর আফ্রিকা মহাদেশ থেকে মোট সাতটি দেশ এই বিভাগে চলচ্চিত্র জমা দিলেও, চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছে কেবল তিউনিসিয়া। অন্য যে দেশগুলো তাদের চলচ্চিত্র জমা দিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ছিল মিশর (হ্যাপি বার্থডে), মাদাগাস্কার (ডিস্কো আফ্রিকা: আ মালাগাসি স্টোরি), মরক্কো (কাইয়ে মালাগা), সেনেগাল (দেম্বা), দক্ষিণ আফ্রিকা (দ্য হার্ট ইজ আ মাসল) এবং উগান্ডা (কিমোটে)।
পরিচালক কাওথার বেন হানিয়ার জন্য এটি তৃতীয় অস্কার মনোনয়ন। এর আগে তিনি ‘দ্য ম্যান হু সোল্ড হিজ স্কিন’ (২০২০) ছবির জন্য সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে এবং ‘ফোর ডটার্স’ (২০২৩) ছবির জন্য সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিউনিসিয়ার পক্ষ থেকে একাধিকবার অস্কার মনোনয়ন প্রাপ্ত নির্মাতা হিসেবে তিনি এক বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন।
‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনার উপর ভিত্তি করে। এই ঘটনায় নিহত হন পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিন্দ রজব, তার চার কাজিন, খালা-খালু এবং দুজন প্যারামেডিক। ঘটনার দিন গাজায় পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় তাদের গাড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া শিশু হিন্দ রজব তখন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে সাহায্যের জন্য ফোন করে। কিন্তু মর্মান্তিক ঘটনা এখানেই শেষ নয়, উদ্ধারকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং শিশুটিকেও পরবর্তীতে হামলা চালিয়ে নিহত করা হয়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিশ্বখ্যাত অভিনয়শিল্পী ব্র্যাড পিট, জোয়াকিন ফিনিক্স, রুনি মারা, এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা আলফোনসো কুয়ারন ও জনাথন গ্লেজার এই সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন, যা এর গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক আবেদনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























