ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

পূর্বধলায় জামায়াত কর্মীর প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট, বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণার পূর্বধলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত। তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি দাবি করেছে, জামায়াত নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় পণ্য বিতরণ করছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের কারণ।

মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা সদরের রৌশন আরা রোডে উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাছুম মোস্তফা। এসময় ভুক্তভোগী জামায়াত কর্মী সুরুজ্জামানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ আলীর পুত্র সুরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের আমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ‘নওরোজ কম্পিউটার ট্রেনিং অ্যান্ড কোচিং সেন্টার’ পরিচালনা করে আসছেন। একই স্থানে ‘ফ্যামিলি শপ’ নামে তার একটি মুদি ব্যবসাও রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি সুরুজ্জামানের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। এসময় সুরুজ্জামানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০টি কম্পিউটার, ২টি প্রিন্টার, ২টি সিসি ক্যামেরা, একটি মোটরসাইকেল, ১০ বস্তা চিনি, ১০ বস্তা মসুর ডাল, ৫০০ কেজি ডিটারজেন্ট এবং ২০ কার্টন সয়াবিন তেল লুট করে নিয়ে গেছে। লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২ হাজার ৪৫০ টাকা।

জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাদেক আহমদ হারিছ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাসেল আহমেদ, তাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারা দাবি করেন, জামায়াত নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করছিল, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। তবে হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা দৃঢ়ভাবে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দ্রুত দেশে আনা হচ্ছে

পূর্বধলায় জামায়াত কর্মীর প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট, বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোণার পূর্বধলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত। তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি দাবি করেছে, জামায়াত নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় পণ্য বিতরণ করছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের কারণ।

মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা সদরের রৌশন আরা রোডে উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাছুম মোস্তফা। এসময় ভুক্তভোগী জামায়াত কর্মী সুরুজ্জামানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ আলীর পুত্র সুরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের আমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ‘নওরোজ কম্পিউটার ট্রেনিং অ্যান্ড কোচিং সেন্টার’ পরিচালনা করে আসছেন। একই স্থানে ‘ফ্যামিলি শপ’ নামে তার একটি মুদি ব্যবসাও রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি সুরুজ্জামানের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। এসময় সুরুজ্জামানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০টি কম্পিউটার, ২টি প্রিন্টার, ২টি সিসি ক্যামেরা, একটি মোটরসাইকেল, ১০ বস্তা চিনি, ১০ বস্তা মসুর ডাল, ৫০০ কেজি ডিটারজেন্ট এবং ২০ কার্টন সয়াবিন তেল লুট করে নিয়ে গেছে। লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২ হাজার ৪৫০ টাকা।

জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাদেক আহমদ হারিছ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাসেল আহমেদ, তাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারা দাবি করেন, জামায়াত নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করছিল, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। তবে হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা দৃঢ়ভাবে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।