ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

৬২ বছরের সংগীত জীবনে প্রথমবার শিল্পকলায় রুনা লায়লার একক পরিবেশনা

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরস্রষ্টা রুনা লায়লা তার দীর্ঘ ৬২ বছরের পেশাদার সংগীত জীবনে এই প্রথমবার একক গানের অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এই ঐতিহাসিক সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এই আয়োজনের টিকিট বিক্রয়লব্ধ অর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য।

সম্মাননা গ্রহণের পর বাংলাদেশের অভিনয় অঙ্গনের চিরসবুজ অভিনেতা আফজাল হোসেনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় রুনা লায়লা তার সংগীত পরিবেশনা শুরু করেন। তিনি প্রথমেই দেশের জন্য আত্মদানকারী শহীদদের উৎসর্গ করে পরিবেশন করেন ‘দেশের জন্য যারা দিয়েগেছো প্রাণ ভুলিনি আমরা’ গানটি। এরপর একে একে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শুনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘যেজন প্রেমের ভাব জানেনা’, ‘আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম দেখা পাইলাম না’ সহ জনপ্রিয় সব গান পরিবেশন করেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো মঞ্চে তিনি নজরুল সংগীত ‘ভুলিতে পারিনি তাই আসিয়াছি পথ ভুলে’ গেয়ে শোনান।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এই পরিবেশনায় তিনি আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান এবং দেশাত্মবোধক সংগীত মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন, কোথাও দর্শকের সম্মিলিত কণ্ঠ, আবার কোথাও আবেগঘন নীরবতা তৈরি করে এক স্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যা। সর্বশেষ ‘দামাদম মাসকালান্দার’ গানের পরিবেশনা দিয়েই শিল্পকলায় রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যা শেষ হয়।

অনেক দর্শক জীবনে প্রথমবারের মতো রুনা লায়লাকে সরাসরি দেখেছেন এবং তার গান উপভোগ করেছেন। সম্মাননা গ্রহণ করে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘আমার সংগীত জীবনের পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, দোয়া পেয়েছি, আমার জীবন ধন্য।’ তিনি তার গান ও স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উল্লাস, যন্তর মন্তরে ‘স্বৈরাচার পরাজিত’ স্লোগান

৬২ বছরের সংগীত জীবনে প্রথমবার শিল্পকলায় রুনা লায়লার একক পরিবেশনা

আপডেট সময় : ০৬:১৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরস্রষ্টা রুনা লায়লা তার দীর্ঘ ৬২ বছরের পেশাদার সংগীত জীবনে এই প্রথমবার একক গানের অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এই ঐতিহাসিক সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এই আয়োজনের টিকিট বিক্রয়লব্ধ অর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য।

সম্মাননা গ্রহণের পর বাংলাদেশের অভিনয় অঙ্গনের চিরসবুজ অভিনেতা আফজাল হোসেনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় রুনা লায়লা তার সংগীত পরিবেশনা শুরু করেন। তিনি প্রথমেই দেশের জন্য আত্মদানকারী শহীদদের উৎসর্গ করে পরিবেশন করেন ‘দেশের জন্য যারা দিয়েগেছো প্রাণ ভুলিনি আমরা’ গানটি। এরপর একে একে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শুনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘যেজন প্রেমের ভাব জানেনা’, ‘আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম দেখা পাইলাম না’ সহ জনপ্রিয় সব গান পরিবেশন করেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো মঞ্চে তিনি নজরুল সংগীত ‘ভুলিতে পারিনি তাই আসিয়াছি পথ ভুলে’ গেয়ে শোনান।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এই পরিবেশনায় তিনি আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান এবং দেশাত্মবোধক সংগীত মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন, কোথাও দর্শকের সম্মিলিত কণ্ঠ, আবার কোথাও আবেগঘন নীরবতা তৈরি করে এক স্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যা। সর্বশেষ ‘দামাদম মাসকালান্দার’ গানের পরিবেশনা দিয়েই শিল্পকলায় রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যা শেষ হয়।

অনেক দর্শক জীবনে প্রথমবারের মতো রুনা লায়লাকে সরাসরি দেখেছেন এবং তার গান উপভোগ করেছেন। সম্মাননা গ্রহণ করে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘আমার সংগীত জীবনের পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, দোয়া পেয়েছি, আমার জীবন ধন্য।’ তিনি তার গান ও স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।