পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের ফলে বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ি থেকে জিলবাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়কটির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অটোরিকশা, ভ্যানসহ সকল প্রকার হালকা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ এবং কর্মজীবী মানুষ। বিন্না, রাজাবাড়ি, জিলবাড়ি, উড়িবুনিয়া, লেবুবাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াত কার্যত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই সড়কটি পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা থেকে নেছারাবাদ উপজেলায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাবাড়ির মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের অংশ থেকে বিন্না বাজার হয়ে জিলবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে খাল ভাঙনের কারণে সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ আগেই বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে অবশিষ্ট অংশেও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙা অংশে অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ও ছোট সাঁকো বসিয়ে কোনোমতে মোটরসাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়ক দিয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়াও পাশের নাজিরপুর উপজেলার অন্তত তিনটি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদর ও ইন্দেরহাট-মিয়ারহাট বাজারে যেতে এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এলজিইডির পক্ষ থেকে স্থায়ী মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটির অবশিষ্ট অংশও খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























