ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এ সময় তাদের সাংগঠনিক খাতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জামায়াতের মহিলা দায়িত্বশীলরা বিকেলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। প্রচারকালে দলের এক নারী কর্মীর আমন্ত্রণে তারা জেবল হোসেনের বাড়িতে চা পান করতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ ও যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে হট্টগোল শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের ওয়ার্ড মহিলা দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগমকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর মহিলা জামায়াতের কর্মীরা বিষয়টি তাদের ওয়ার্ড নেতাদের অবহিত করেন। এরপর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন, সেক্রেটারি মো. কাইয়ুম, শিবিরের সাবেক পৌর সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন এবং জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় একই সময়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রফিকও সেখানে আসেন। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাকবিতণ্ডা চলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন বলেন, “আমাদের মহিলা শাখার কর্মীরা নিয়মিত বিকেলে নির্বাচনী প্রচার চালান, যা প্রতিটি রাজনৈতিক দলই করে থাকে। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের নারী কর্মীদের অশালীন ভাষায় হেনস্তা করেছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

অন্যদিকে, পৌর কমিশনার ও মহিলা দলের নেত্রী মাকসুদা জানান, “জামায়াতের কয়েকজন মহিলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। তবে বিএনপির কেউ তাদের সঙ্গে কোনো অসদাচরণ করেনি। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।”

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।”

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতের কয়েকজন নারী বিএনপির এক সমর্থকের বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৬২ বছরের সংগীত জীবনে প্রথমবার শিল্পকলায় রুনা লায়লার একক পরিবেশনা

সীতাকুণ্ডে নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এ সময় তাদের সাংগঠনিক খাতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জামায়াতের মহিলা দায়িত্বশীলরা বিকেলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। প্রচারকালে দলের এক নারী কর্মীর আমন্ত্রণে তারা জেবল হোসেনের বাড়িতে চা পান করতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ ও যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে হট্টগোল শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের ওয়ার্ড মহিলা দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগমকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর মহিলা জামায়াতের কর্মীরা বিষয়টি তাদের ওয়ার্ড নেতাদের অবহিত করেন। এরপর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন, সেক্রেটারি মো. কাইয়ুম, শিবিরের সাবেক পৌর সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন এবং জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় একই সময়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রফিকও সেখানে আসেন। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাকবিতণ্ডা চলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন বলেন, “আমাদের মহিলা শাখার কর্মীরা নিয়মিত বিকেলে নির্বাচনী প্রচার চালান, যা প্রতিটি রাজনৈতিক দলই করে থাকে। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের নারী কর্মীদের অশালীন ভাষায় হেনস্তা করেছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

অন্যদিকে, পৌর কমিশনার ও মহিলা দলের নেত্রী মাকসুদা জানান, “জামায়াতের কয়েকজন মহিলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। তবে বিএনপির কেউ তাদের সঙ্গে কোনো অসদাচরণ করেনি। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।”

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।”

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতের কয়েকজন নারী বিএনপির এক সমর্থকের বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।”