ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ হলে কঠোর পরিণতি: নির্বাচন কমিশনার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামান্যতম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কমিশন কোনো ছাড় দেবে না।

মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, অতীতে অনেক প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে মূলত নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে। এই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তাই, কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আসবে না যা পক্ষপাতিত্বকে উৎসাহিত করে। তবে, যদি কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হন এবং তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মেলে, তবে তাকে কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।

এই নির্বাচন কেবল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই নির্বাচনকে দীর্ঘ খরার পর আগত বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এটি কমিশনের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনেও তথ্য প্রযুক্তির এমন আধুনিক প্রয়োগ ছিল না।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্যবদ্ধতাই একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত, যা ফেনী জেলায় বিদ্যমান রয়েছে। এবার আচরণবিধি মেনে চলার মনোভাব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে, যা কমিশনের কাজকে সহজ করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ থাকবে না। নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা বজায় রাখা অপরিহার্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হবে যেন প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ব্যত্যয় যেন না ঘটে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সকলের ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, ৪-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনী, ৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ হলে কঠোর পরিণতি: নির্বাচন কমিশনার

আপডেট সময় : ০৮:০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামান্যতম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কমিশন কোনো ছাড় দেবে না।

মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, অতীতে অনেক প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে মূলত নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে। এই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তাই, কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আসবে না যা পক্ষপাতিত্বকে উৎসাহিত করে। তবে, যদি কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হন এবং তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মেলে, তবে তাকে কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।

এই নির্বাচন কেবল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই নির্বাচনকে দীর্ঘ খরার পর আগত বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এটি কমিশনের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনেও তথ্য প্রযুক্তির এমন আধুনিক প্রয়োগ ছিল না।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্যবদ্ধতাই একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত, যা ফেনী জেলায় বিদ্যমান রয়েছে। এবার আচরণবিধি মেনে চলার মনোভাব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে, যা কমিশনের কাজকে সহজ করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ থাকবে না। নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা বজায় রাখা অপরিহার্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হবে যেন প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ব্যত্যয় যেন না ঘটে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সকলের ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, ৪-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনী, ৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।