ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

ভান্ডারিয়ায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার: চাচার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে প্রতিবেশীর গোয়ালঘরের খড়ের গাদা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির চাচা ও চাচীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিহত শিশুটির নাম মো. রাইয়ান মল্লিক (৫)। সে ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রাসেল মল্লিকের সন্তান। রাইয়ান স্থানীয় পশুরিবুনীয়া আফছারিয়া নূরানী কিন্ডারগার্টেনের শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুটির চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক পূর্ব বিরোধের জেরে রাইয়ানকে হত্যা করে লাশ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. মিজান মল্লিকের ছেলে রিয়াদ মল্লিক, আব্দুল হক মল্লিকের ছেলে মিজান মল্লিক, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম এবং মিজান মল্লিকের স্ত্রী পারভীন বেগম।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা আব্দুল হক মল্লিক বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার দুপুরে রাইয়ান নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় মা তন্নী আক্তার ভান্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি যৌথ দল অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী কাদের মল্লিকের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির বাড়ির পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটটির হাতের লেখা বিশ্লেষণ করে শিশুটির চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ চিরকুটটি নিজের হাতে লেখার কথা স্বীকার করে। রিয়াদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি তিন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা

ভান্ডারিয়ায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার: চাচার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে প্রতিবেশীর গোয়ালঘরের খড়ের গাদা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির চাচা ও চাচীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিহত শিশুটির নাম মো. রাইয়ান মল্লিক (৫)। সে ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রাসেল মল্লিকের সন্তান। রাইয়ান স্থানীয় পশুরিবুনীয়া আফছারিয়া নূরানী কিন্ডারগার্টেনের শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুটির চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক পূর্ব বিরোধের জেরে রাইয়ানকে হত্যা করে লাশ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. মিজান মল্লিকের ছেলে রিয়াদ মল্লিক, আব্দুল হক মল্লিকের ছেলে মিজান মল্লিক, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম এবং মিজান মল্লিকের স্ত্রী পারভীন বেগম।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা আব্দুল হক মল্লিক বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার দুপুরে রাইয়ান নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় মা তন্নী আক্তার ভান্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি যৌথ দল অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী কাদের মল্লিকের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির বাড়ির পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটটির হাতের লেখা বিশ্লেষণ করে শিশুটির চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ চিরকুটটি নিজের হাতে লেখার কথা স্বীকার করে। রিয়াদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি তিন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।