আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। বাহিনীটি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সোমবার রাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিয়নের সকল পর্যায়ের অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহাপরিচালক বলেন, ভোটাররা যাতে নিরাপদে, শান্তিপূর্ণভাবে ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখেই সারা দেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আরও বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসটিএক্স অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্ত, পেশাদার ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম, বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা হওয়ায় মহাপরিচালক এ অঞ্চলের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা উপস্থিতিজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে, মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজার পরিদর্শন করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























