শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদান এবং অস্ট্রেলিয় বাঙালি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নিরলস সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ মেলবোর্ন প্রবাসী নাট্যজন কামরুজ্জামানকে ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৬ সালে জেনারেল বিভাগে ‘মেডাল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ (ওএএম) সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর-জেনারেল গতকাল ২৬ জানুয়ারি ‘অস্ট্রেলিয়া ডে’ উপলক্ষে এই মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ঘোষণা করেন, যা দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কামরুজ্জামান অস্ট্রেলিয়ায় বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। তার উদ্যোগে ২০০০ সালে মেলবোর্নে প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যতম নিয়মিত নাট্যসংগঠন ‘রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি মেলবোর্ন’। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নির্দেশনা, অভিনয় এবং মঞ্চের নেপথ্যের কার্যাবলীতেও তিনি বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রেনেসাঁ-র ২১টি মঞ্চায়িত নাটকের সিংহভাগই তার নির্দেশনায় নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘কঞ্জুস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘এলেকশান ক্যারিকেচার’, ‘শকুন্তলা’, ‘মাউসট্র্যাপ’, ‘মুনতাসির’, ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
কামরুজ্জামান বালার্ক মেলবোর্নে ‘বাংলা সাহিত্য সংসদ’ এবং ‘বাংলাদেশ ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড’ প্রতিষ্ঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মেলবোর্ন থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘শেকড়’-এর সম্পাদনার সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, তিনি স্থানীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ এবং অন্যান্য জাতীয় দিবস উদযাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৩ সালে রেনেসাঁ-র আমন্ত্রণে বাংলাদেশি নাট্যজন জাহিদ রিপনের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও ভারতের নাট্যকর্মীদের সমন্বয়ে আয়োজিত বৃহৎ প্রযোজনা ‘অচলায়তন’-এর উদ্যোক্তা ও প্রযোজনা-অধিকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। একই প্রযোজনা ‘অচলায়তন’-এর নির্মাণযাত্রা নিয়ে শঙ্খজিৎ বিশ্বাস ও বিশ্বজিৎ মিত্র পরিচালিত প্রামাণ্য-কাহিনিচিত্র ‘তৃতীয় ভুবন’ (বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ)-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছেন। চলচ্চিত্রটি একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পাশাপাশি মেলবোর্নের সিনেপ্লেক্স ‘শোবিজ সিনেমাস’-এ দীর্ঘ সময় প্রদর্শিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে কামরুজ্জামান একজন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মরহুম আবিদ মিয়া বকাউলের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
রিপোর্টারের নাম 

























