সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলায় নঈমুল হক চৌধুরী দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নঈমুল হক চৌধুরী সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে পরিচালক (অর্থ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত দুই নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার প্রধান আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনসহ নানা দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়।
ইউজিসির তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ মোট ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৫ এপ্রিল আদালত অভিযুক্ত ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নঈমুল হক চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























