দেশের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দায় বেশি বলে মন্তব্য করেছেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগ এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল যা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ব্যক্তি পূজা, তোষামোদি এবং ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। তিনি বিচার বিভাগের সমালোচনা করে বলেন, যদি কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হতো এবং বিচার বিভাগ বা হাইকোর্ট তিন মাস বন্ধ থাকত, তাতেও দেশের তেমন ক্ষতি হতো না। তিনি উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় চার দিন পুলিশ না থাকলেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বলেন, এতে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট সভ্য।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়ায় আদালত চত্বরে হামলার শিকার হওয়ার পরও বিচার বিভাগ বা সুশীল সমাজের কাছ থেকে কোনো প্রতিবাদ পাননি। তার বিরুদ্ধে ১২৫টি মামলা থাকায় বিভিন্ন জেলায় হাজিরা দিতে হতো। এসব মামলা একত্র করে ঢাকায় স্থানান্তরের আবেদন করা হলেও কোনো বিচারপতি তা গ্রহণ করেননি। তিনি আরও জানান, হামলার পরদিনও সুনামগঞ্জে আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। না গেলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আশঙ্কা ছিল। এ অবস্থায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইতে গেলে একজন বিচারপতি তাকে বলেন, ‘আপনার চেহারা দেখতে আমাদের ভালো লাগে না। আপনি আর কখনো হাইকোর্টে আসবেন না।’
রিপোর্টারের নাম 























