যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরাইলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য নবায়ন করেছে। এই সিদ্ধান্ত শুক্রবার (১৯ জুলাই, ২০২৪) গৃহীত হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাবের ভিত্তিতে, ১৪৪টি দেশ তুর্কের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দেয়, যেখানে ১০টি দেশ বিপক্ষে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। তার নতুন মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।
রাশিয়া তুর্কের মেয়াদ কেবল ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল, যা বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভোট স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিল, যা গ্রহণ করা হয়নি। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস চার বছরের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত উভয় দিক থেকেই বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মহাসচিব পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করেছেন এবং তার দীর্ঘদিনের বন্ধুকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সময়সূচি এগিয়ে নিয়েছেন। বার্টোস হুঁশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে তার সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ এবং অর্থায়ন পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
তবে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ ভলকার তুর্কের প্রশংসা করে তাকে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দেন এবং বলেন যে, তিনি তার প্রথম মেয়াদে দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রিয়ার নাগরিক আইনজীবী ভলকার তুর্ক ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানবাধিকারের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তার মেয়াদকালে তিনি ইউক্রেন আগ্রাসন, গাজা যুদ্ধ, আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব ছিলেন। তবে, কিউবা, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং গাজা প্রসঙ্গে সরাসরি ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার না করার কারণে তিনি সমালোচনার সম্মুখীনও হয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















