দেশের শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা-প্রযোজক অনন্ত জলিল বর্তমানে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গুরুতর সংকট মোকাবিলা করছেন। একসময়ে সাভারের কারখানায় প্রায় ১২ হাজার কর্মী থাকলেও, সেই সংখ্যা বর্তমানে ৪ হাজারে নেমে এসেছে। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি চলচ্চিত্র থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ ব্যবসার দিকেই নিবদ্ধ করেছেন।
‘মোস্ট ওয়েলকাম’ এবং ‘দিন দ্য ডে’ খ্যাত এই অভিনেতা জানিয়েছেন, ব্যবসার অবস্থা এতটাই প্রতিকূল যে, এই মুহূর্তে অভিনয় নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি তার হাতে থাকা বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন সিনেমার কাজও শেষ করতে পারছেন না তিনি।
অনন্ত জলিল বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অনুরাগ থাকলেও, আমি সবসময়ই একজন ব্যবসায়িক মানসিকতার মানুষ। শুটিংয়ের ফাঁকেও আমি আমার ব্যবসার খোঁজখবর নিতাম। ব্যবসা ভালো অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত আমার পক্ষে সিনেমায় ফেরা সমীচীন হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যখন কোনো কাজে সংকট দেখা দেয়, তখন সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার দিকেই আমার স্বভাবগত মনোযোগ থাকে। এখন যেহেতু ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, এই সময়ে সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।”
অন্যদিকে, অনন্ত জলিলের স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা বর্ষাকেও আর সিনেমায় দেখা যাবে না বলে সম্প্রতি তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন। এই যৌথ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের নিয়ে নির্মিতব্য বেশ কয়েকটি সিনেমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
২০০৮ সালে প্রযোজনা ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনন্ত জলিল চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। তখন থেকে তার প্রতিটি সিনেমায় তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন স্ত্রী বর্ষা। এ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, “যখন সিনেমা করবো, তখন দুজনেই একসঙ্গে করবো। আর যদি না করি, তবে দুজনের কেউই করবো না। কারণ এটি আমাদের পেশা নয়, আমরা শখের বশেই কাজ করি।”
অনন্ত জলিলের ‘নেত্রী দ্য লিডার’ এবং ‘অপারেশন জ্যাকপট’—এই দুটি সিনেমার শুটিং এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এছাড়া, জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে মাসুদ রানা সিরিজের ‘চিতা’ নামের আরেকটি সিনেমার মহরত অনুষ্ঠিত হলেও, এর শুটিং শুরু হয়নি। এই সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল জানান, “যদি কখনো ভালো সময় আসে, তাহলে কাজগুলো করবো, অন্যথায় নয়।”
রিপোর্টারের নাম 

























