ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রের পদত্যাগ ঘোষণা: জিএস ফরহাদ বললেন ‘লিখিত পাইনি, অফিশিয়াল তথ্য নেই’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তার এই পদত্যাগের বিষয়ে ডাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোনো অফিশিয়াল তথ্য বা লিখিত পদত্যাগপত্র তারা পাননি।

সোমবার দুপুরে ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, “সাধারণত পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো বিষয় এলে সেটি লিখিত আকারে আমার কাছে আসার কথা। এখন পর্যন্ত আমি তেমন কিছু পাইনি। এর বাইরে অন্য কোনো বক্তৃতা, কোনো পোস্ট কিংবা কোনো ফিডব্যাক আমার কাছে বিবেচনার বিষয় নয়।”

সর্বমিত্র চাকমার কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্নের জবাবে জিএস ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের বিরুদ্ধে এবং অন্যান্য অন্যায়-অবিচারে আমরা সোচ্চার। কিন্তু আমরা বারবার দেখেছি, প্রশাসন আমাদের অসহযোগিতা করেছে; বরং উল্টো বিরোধিতা করেছে, আমাদের কাজ বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। ছোট ছোট সংস্কারের কাজ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রকল্প পর্যন্ত, প্রত্যেকটা কাজে একটি চক্র—শিক্ষক ও কর্মচারীদের একটি বিশেষ গোষ্ঠী—যৌথভাবে আমাদের কাজগুলো বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এমন পরিস্থিতিতে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্যরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও কাজ চালিয়ে গেছেন।”

জিএস ফরহাদ ডাকসুর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, “আমাদের মূল কাজ হলো অ্যাডভোকেসি করা। যেমন মসজিদ সংস্কারের মতো বিষয়গুলো; একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এটি করতে চাইলে, তারা এসে করে দেয় এবং আমরা তাদের জন্য প্রবেশাধিকার তৈরি করি। অথবা প্রশাসন যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা সেটি করে। এর বাইরে আমরা সরাসরি কোনো কিছু করি না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “কোনো সদস্য যদি সরাসরি কোনো কাজ করতে চান, আমরা তাকে বলি—এভাবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই এটি বাস্তবায়ন করবে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কোনো কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি যদি প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে নিজে অ্যাকশনে নেমে যান, সেটি যদিও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি করে থাকেন, এটা কাম্য নয়। এভাবে করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সেগুলো নিশ্চিত করবেন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বলিভিয়ায় নোটবাহী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ১৫ জনের প্রাণহানি, ছড়ানো নোট ঘিরে বিশৃঙ্খলা

ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রের পদত্যাগ ঘোষণা: জিএস ফরহাদ বললেন ‘লিখিত পাইনি, অফিশিয়াল তথ্য নেই’

আপডেট সময় : ০৬:১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তার এই পদত্যাগের বিষয়ে ডাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোনো অফিশিয়াল তথ্য বা লিখিত পদত্যাগপত্র তারা পাননি।

সোমবার দুপুরে ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, “সাধারণত পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো বিষয় এলে সেটি লিখিত আকারে আমার কাছে আসার কথা। এখন পর্যন্ত আমি তেমন কিছু পাইনি। এর বাইরে অন্য কোনো বক্তৃতা, কোনো পোস্ট কিংবা কোনো ফিডব্যাক আমার কাছে বিবেচনার বিষয় নয়।”

সর্বমিত্র চাকমার কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্নের জবাবে জিএস ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের বিরুদ্ধে এবং অন্যান্য অন্যায়-অবিচারে আমরা সোচ্চার। কিন্তু আমরা বারবার দেখেছি, প্রশাসন আমাদের অসহযোগিতা করেছে; বরং উল্টো বিরোধিতা করেছে, আমাদের কাজ বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। ছোট ছোট সংস্কারের কাজ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রকল্প পর্যন্ত, প্রত্যেকটা কাজে একটি চক্র—শিক্ষক ও কর্মচারীদের একটি বিশেষ গোষ্ঠী—যৌথভাবে আমাদের কাজগুলো বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এমন পরিস্থিতিতে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্যরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও কাজ চালিয়ে গেছেন।”

জিএস ফরহাদ ডাকসুর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, “আমাদের মূল কাজ হলো অ্যাডভোকেসি করা। যেমন মসজিদ সংস্কারের মতো বিষয়গুলো; একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এটি করতে চাইলে, তারা এসে করে দেয় এবং আমরা তাদের জন্য প্রবেশাধিকার তৈরি করি। অথবা প্রশাসন যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা সেটি করে। এর বাইরে আমরা সরাসরি কোনো কিছু করি না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “কোনো সদস্য যদি সরাসরি কোনো কাজ করতে চান, আমরা তাকে বলি—এভাবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই এটি বাস্তবায়ন করবে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কোনো কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি যদি প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে নিজে অ্যাকশনে নেমে যান, সেটি যদিও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি করে থাকেন, এটা কাম্য নয়। এভাবে করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সেগুলো নিশ্চিত করবেন।”