জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিশেষ বৃত্তির প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (২০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে রোববার সকাল ১০টায় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় দুপুর ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দিনভর ‘২০ ব্যাচ বঞ্চিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। রাত গড়িয়ে গেলেও দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে থেকে ভবনের সামনে অবস্থান করছেন কয়েক শ শিক্ষার্থী।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বৃত্তির তালিকায় ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হয়েছে। তালিকায় এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৬ মাসের বৃত্তি দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রদানের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা তারা মানতে নারাজ। এছাড়া নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও অনেকের নাম তালিকায় আসা এবং আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুতর অসংগতির অভিযোগ তুলেছেন তারা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আন্দোলনের এক পর্যায়ে কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা পেছনের গেট দিয়ে ভবন ত্যাগ করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়। তাদের দাবি, আবাসন বৃত্তির তালিকা সংশোধন করে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ২০তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীকে প্রথম কিস্তির টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জকসুর এজিএস মাসুদ রানা। তিনি জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং প্রশাসনের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এর সুষ্ঠু সমাধান বের করা।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কোষাধ্যক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরবেন না। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং বাইরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























