ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশেষ বৃত্তির তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশেষ বৃত্তির প্রথম কিস্তির তালিকা থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (২০ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এই অভিযোগের প্রতিবাদে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘বৃত্তি আমার অধিকার’, ‘রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘জকসু না বৃত্তি—বৃত্তি বৃত্তি’, ‘জকসু ও প্রশাসন, এক দেহ এক মন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, অন্যান্য ব্যাচের সঙ্গে প্রথম কিস্তিতেই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন, শফিক, বলেন, “আমরা চাই বৃত্তির তালিকা সংশোধন করে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ১৫ ব্যাচ থেকে ১৯ ব্যাচের সঙ্গে আমাদেরকেও যুক্ত করতে হবে। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৩ জানুয়ারি বিশেষ বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকায় মোট ১০ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮ হাজার ৩৩০ জন এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং কম সিজিপিএধারীদের এই তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নতুন শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। তাই বিশেষ বৃত্তির তালিকায় ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। তিনি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বিশেষ বৃত্তির সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য দিয়েছেন বা তথ্য গোপন করেছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত অথবা তাদের আবাসন বরাদ্দ বাতিল করা উচিত। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

বিশেষ বৃত্তির তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশেষ বৃত্তির প্রথম কিস্তির তালিকা থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (২০ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এই অভিযোগের প্রতিবাদে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘বৃত্তি আমার অধিকার’, ‘রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘জকসু না বৃত্তি—বৃত্তি বৃত্তি’, ‘জকসু ও প্রশাসন, এক দেহ এক মন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, অন্যান্য ব্যাচের সঙ্গে প্রথম কিস্তিতেই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন, শফিক, বলেন, “আমরা চাই বৃত্তির তালিকা সংশোধন করে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ১৫ ব্যাচ থেকে ১৯ ব্যাচের সঙ্গে আমাদেরকেও যুক্ত করতে হবে। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৩ জানুয়ারি বিশেষ বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকায় মোট ১০ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮ হাজার ৩৩০ জন এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং কম সিজিপিএধারীদের এই তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নতুন শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। তাই বিশেষ বৃত্তির তালিকায় ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। তিনি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বিশেষ বৃত্তির সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য দিয়েছেন বা তথ্য গোপন করেছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত অথবা তাদের আবাসন বরাদ্দ বাতিল করা উচিত। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।