ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে নিয়ে নতুন সুরের সংযোজন

একদা গ্রামবাংলার জননন্দিত লোকগান, পুঁথি ও কিচ্ছা পরিবেশনা সময়ের স্রোতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই ঐতিহ্যের ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অভিনব প্রয়াস নিয়ে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান। তিনি এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে দুটি লোকসংগীত পরিবেশনা, একটি পুঁথি ও একটি কিচ্ছা সৃষ্টি করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই তথ্য জানিয়ে শিল্পী দিলরুবা খান বলেন, “শৈশবে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুঁথি গান, কিচ্ছা কিংবা গীতের যে সুরের মূর্ছনা আমরা শুনতাম, তা আজ আধুনিকতার ভিড়ে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এই অমূল্য সম্পদগুলো বিলুপ্তপ্রায়। এই হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন রূপে পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

দিলরুবা খানের ভাষ্যমতে, তাঁর এই উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত সৃষ্টি নয়, বরং লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের দুই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানকে নিয়ে একটি পুঁথি ও একটি কিচ্ছা পরিবেশনা করেছি। ঐতিহ্যের ছন্দে এবং কিচ্ছার বর্ণনায় তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, গ্রামবাংলার চিরচেনা এই শৈল্পিক উপস্থাপনা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং আমাদের সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগাবে।”

শিল্পী জানিয়েছেন, তাঁর এই দুটি নতুন পরিবেশনা আজ (২৫ জানুয়ারি) এবং আগামীকাল (২৬ জানুয়ারি) তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Dilruba Khan Official’-এ পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে।

উল্লেখ্য, শিল্পী দিলরুবা খান তাঁর সংগীত জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী আবদুল আলীমের গান গেয়ে। যদিও তাঁর বাবা সৈয়দ হামিদুর রশিদ ছিলেন রাজশাহী ও রংপুর বেতারের একজন শিল্পী, তবুও তিনি তাঁর মেয়ের গান জগতে প্রবেশে সায় দেননি। কিন্তু গানের প্রতি অদম্য আকর্ষণ এবং সহজাত প্রতিভাই দিলরুবা খানকে একজন পরিচিত লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টেলিভিশনে একটি নাটকে তাঁর গাওয়া ‘দুই ভূবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল, রেল লাইন বহে সমান্তরাল’ গানটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৯১ সালে তাঁর গাওয়া ‘পাগল মন মনরে’ গানটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, তিনি ‘পাগল মন দিলরুবা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পাশাপাশি, চলচ্চিত্রের গানেও তিনি তাঁর কণ্ঠ দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে নিয়ে নতুন সুরের সংযোজন

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

একদা গ্রামবাংলার জননন্দিত লোকগান, পুঁথি ও কিচ্ছা পরিবেশনা সময়ের স্রোতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই ঐতিহ্যের ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অভিনব প্রয়াস নিয়ে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান। তিনি এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে দুটি লোকসংগীত পরিবেশনা, একটি পুঁথি ও একটি কিচ্ছা সৃষ্টি করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই তথ্য জানিয়ে শিল্পী দিলরুবা খান বলেন, “শৈশবে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুঁথি গান, কিচ্ছা কিংবা গীতের যে সুরের মূর্ছনা আমরা শুনতাম, তা আজ আধুনিকতার ভিড়ে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এই অমূল্য সম্পদগুলো বিলুপ্তপ্রায়। এই হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন রূপে পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

দিলরুবা খানের ভাষ্যমতে, তাঁর এই উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত সৃষ্টি নয়, বরং লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের দুই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানকে নিয়ে একটি পুঁথি ও একটি কিচ্ছা পরিবেশনা করেছি। ঐতিহ্যের ছন্দে এবং কিচ্ছার বর্ণনায় তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, গ্রামবাংলার চিরচেনা এই শৈল্পিক উপস্থাপনা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং আমাদের সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগাবে।”

শিল্পী জানিয়েছেন, তাঁর এই দুটি নতুন পরিবেশনা আজ (২৫ জানুয়ারি) এবং আগামীকাল (২৬ জানুয়ারি) তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Dilruba Khan Official’-এ পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে।

উল্লেখ্য, শিল্পী দিলরুবা খান তাঁর সংগীত জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী আবদুল আলীমের গান গেয়ে। যদিও তাঁর বাবা সৈয়দ হামিদুর রশিদ ছিলেন রাজশাহী ও রংপুর বেতারের একজন শিল্পী, তবুও তিনি তাঁর মেয়ের গান জগতে প্রবেশে সায় দেননি। কিন্তু গানের প্রতি অদম্য আকর্ষণ এবং সহজাত প্রতিভাই দিলরুবা খানকে একজন পরিচিত লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টেলিভিশনে একটি নাটকে তাঁর গাওয়া ‘দুই ভূবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল, রেল লাইন বহে সমান্তরাল’ গানটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৯১ সালে তাঁর গাওয়া ‘পাগল মন মনরে’ গানটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, তিনি ‘পাগল মন দিলরুবা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পাশাপাশি, চলচ্চিত্রের গানেও তিনি তাঁর কণ্ঠ দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।