ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসা প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একদল কিশোর-তরুণকে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। তাদের সামনে লাঠি হাতে শাসাতে দেখা যায় ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে। ভিডিওতে যাদের বয়স অনুমানিকভাবে ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে মনে হয়েছে।
ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, গত ৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিম দিক থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, ওই দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় মাঠে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার অনুশীলন চলছিল। মাঠের এক কোণায় বালিযুক্ত অংশে কয়েকজন বহিরাগত কিশোর ফুটবল খেলছিল। তখন সর্বমিত্র চাকমা সেখানে গিয়ে তাদের বহিরাগত উল্লেখ করে কানে ধরে উঠবস করান। মাসুম আরও বলেন, কিছু কিশোরের বয়স ৮-১০ বছর এবং কেউ কেউ ১৫–১৬ বছরের ছিল। এ ঘটনায় উপস্থিত একজন আপত্তি জানালে তাকেও ধমক দিয়ে লাইনে দাঁড় করানো হয়। এ সময় প্রক্টরিয়াল টিমের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকের শিক্ষার্থী সংসদ গ্রুপে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, এমন কোনো ভিডিও সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক কাজেরই নিয়ম আছে। খেলতে হলে নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে খেলতে হবে।’ ডাকসুর কোনো সদস্য কাউকে শাস্তি দিতে পারেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখা হবে।’
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম জাকারিয়া বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। যদি এমনটি ঘটে থাকে, তবে নিশ্চয়ই এটি নিয়মবহির্ভূত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাব।’
এ ঘটনার সমালোচনা করে হাজী মোহাম্মদ মুহসিন হলের সমাজসেবা সম্পাদক সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এই কিশোরদের অপরাধ একটাই- তারা কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে এসেছিল। সেই অপরাধে লাঠি হাতে কান ধরে উঠবস করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সারাদেশের মানুষের কাছে হাসির পাত্র বানানো হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল টিম থাকার পরও একজন ডাকসু সদস্য কীভাবে এ ধরনের শাস্তি দিতে পারেন- তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। অনেকে ঘটনাটিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ ও ‘গুন্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ডাকসুর কোনো প্রতিনিধির ক্ষমতা প্রয়োগ কিংবা বল প্রয়োগের সুযোগ নেই। নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধির ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ আসলে নিশ্চয়ই সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনধিকার চর্চা করলে সেটার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান থাকবে। সেটা যেই হোক না কেন।’
রিপোর্টারের নাম 
























