ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে নিয়ে যাত্রাপালার মঞ্চায়ন

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী আয়োজিত যাত্রাপালা প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই উৎসবটি রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বিঘ্নিত হওয়ার পর সম্প্রতি শেষ হলো। গত ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার, এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে মাসব্যাপী যাত্রাপালার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বরেণ্য কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।

এবারের ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব ২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য বর্ষীয়ান যাত্রা শিল্পী আনোয়ার হোসনকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের পর তিনি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিট পরিবেশন করে ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। এম এ মজিদ রচিত এবং তানভীর নাহিদ খান পরিচালিত এই পালাটি দর্শকদের মন জয় করে নেয়।

‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি মুক্তিযুদ্ধের এক অনালোচিত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মঞ্চে তুলে ধরে। যাত্রাপালার মূল উপজীব্য ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর অদম্য নেতৃত্ব, সুচিন্তিত কৌশল, আত্মমর্যাদাবোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর আপোষহীন অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এই আখ্যান নির্মিত হয়েছে। এতে স্থান পেয়েছে মুক্তিবাহিনীর গোপন বৈঠক, গেরিলা বাহিনী গঠন, যুদ্ধের রণনীতি, ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের চিত্র। এই পালাটি একাত্তরের সাহসী লড়াই, সীমাহীন ত্যাগ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে এক শক্তিশালী ও আবেগঘন শিল্পভাষায় উপস্থাপন করে দেশের সকল নাগরিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধান অতিথি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যখন এই যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসব শুরু হয়, তখন আমরা ৩০টি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ২৪টি পালা মঞ্চায়িত হয়, যা আমাদের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। ডিসেম্বরে এই উৎসবের শুরুতে আমি নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীকে ‘জেনারেল ওসমানী’কে নিয়ে একটি যাত্রাপালা তৈরির কথা বলেছিলাম। কারণ, ‘জেনারেল ওসমানী’ আমাদের ইতিহাসের এমন একজন বরণীয় ব্যক্তিত্ব, যাঁকে নানাভাবে আড়াল করার বা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই পালাটি নির্মাণের জন্য হাতে সময় ছিল খুবই কম। আমাদের সরকার স্বল্প সময়ে অনেক বড় ও অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছে, ঠিক তেমনই মাত্র সাত দিনের মধ্যে ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি নির্মিত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই যাত্রাপালাটি আগামী মার্চ মাসে দেশের ৬৪টি জেলায় মঞ্চায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের যাত্রাপালাগুলোতে প্রায়শই দেশের গল্প খুব একটা থাকে না। ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগেরও সূচনা হলো। আমি আশা করি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আমাদের যাত্রাদলগুলোকে দেশের গল্প নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে উৎসাহিত করবে।”

মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীতে নিবন্ধিত ৩৫টি যাত্রাদল ৩৫টি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদলের ১টিসহ মোট ৩৬টি যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হয়। প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত টিকিট বিক্রির সমুদয় অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রাদলকে প্রদান করা হয়। এছাড়া, প্রতিদিনের প্রদর্শিত যাত্রাপালাগুলো জুরি বোর্ডের বিচারকদের দ্বারা মূল্যায়ন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে নিয়ে যাত্রাপালার মঞ্চায়ন

আপডেট সময় : ০৬:০১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী আয়োজিত যাত্রাপালা প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই উৎসবটি রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বিঘ্নিত হওয়ার পর সম্প্রতি শেষ হলো। গত ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার, এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে মাসব্যাপী যাত্রাপালার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বরেণ্য কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।

এবারের ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব ২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য বর্ষীয়ান যাত্রা শিল্পী আনোয়ার হোসনকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের পর তিনি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিট পরিবেশন করে ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। এম এ মজিদ রচিত এবং তানভীর নাহিদ খান পরিচালিত এই পালাটি দর্শকদের মন জয় করে নেয়।

‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি মুক্তিযুদ্ধের এক অনালোচিত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মঞ্চে তুলে ধরে। যাত্রাপালার মূল উপজীব্য ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর অদম্য নেতৃত্ব, সুচিন্তিত কৌশল, আত্মমর্যাদাবোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর আপোষহীন অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এই আখ্যান নির্মিত হয়েছে। এতে স্থান পেয়েছে মুক্তিবাহিনীর গোপন বৈঠক, গেরিলা বাহিনী গঠন, যুদ্ধের রণনীতি, ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের চিত্র। এই পালাটি একাত্তরের সাহসী লড়াই, সীমাহীন ত্যাগ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে এক শক্তিশালী ও আবেগঘন শিল্পভাষায় উপস্থাপন করে দেশের সকল নাগরিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধান অতিথি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যখন এই যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসব শুরু হয়, তখন আমরা ৩০টি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ২৪টি পালা মঞ্চায়িত হয়, যা আমাদের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। ডিসেম্বরে এই উৎসবের শুরুতে আমি নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীকে ‘জেনারেল ওসমানী’কে নিয়ে একটি যাত্রাপালা তৈরির কথা বলেছিলাম। কারণ, ‘জেনারেল ওসমানী’ আমাদের ইতিহাসের এমন একজন বরণীয় ব্যক্তিত্ব, যাঁকে নানাভাবে আড়াল করার বা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই পালাটি নির্মাণের জন্য হাতে সময় ছিল খুবই কম। আমাদের সরকার স্বল্প সময়ে অনেক বড় ও অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছে, ঠিক তেমনই মাত্র সাত দিনের মধ্যে ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি নির্মিত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই যাত্রাপালাটি আগামী মার্চ মাসে দেশের ৬৪টি জেলায় মঞ্চায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের যাত্রাপালাগুলোতে প্রায়শই দেশের গল্প খুব একটা থাকে না। ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগেরও সূচনা হলো। আমি আশা করি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আমাদের যাত্রাদলগুলোকে দেশের গল্প নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে উৎসাহিত করবে।”

মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীতে নিবন্ধিত ৩৫টি যাত্রাদল ৩৫টি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদলের ১টিসহ মোট ৩৬টি যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হয়। প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত টিকিট বিক্রির সমুদয় অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রাদলকে প্রদান করা হয়। এছাড়া, প্রতিদিনের প্রদর্শিত যাত্রাপালাগুলো জুরি বোর্ডের বিচারকদের দ্বারা মূল্যায়ন করা হয়।