ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র চর্চা ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান

তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞানার্জনই শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয়, বরং এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই তরুণদের অংশগ্রহণ যেন কেবল আনুষ্ঠানিক না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত এবং সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সকল স্তরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের জন্যই পরিচালিত হয় এবং তরুণ সমাজ এই জনগণের একটি বিশাল অংশ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাতো, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল।

শিক্ষাঙ্গন কেবল পুঁথিগত বিদ্যার স্থান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ বা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল বিশ্বকাপের লড়াই শুরু আজ, চোখ এখন ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে

শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র চর্চা ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞানার্জনই শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয়, বরং এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই তরুণদের অংশগ্রহণ যেন কেবল আনুষ্ঠানিক না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত এবং সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সকল স্তরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের জন্যই পরিচালিত হয় এবং তরুণ সমাজ এই জনগণের একটি বিশাল অংশ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাতো, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল।

শিক্ষাঙ্গন কেবল পুঁথিগত বিদ্যার স্থান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ বা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।