ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রোজ হাশরে যেভাবে শাফায়াত করবেন নবীজি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

যেমন, তিনি ইরশাদ করেন-شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي রোজ হাশরে আমার সুপারিশ আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস- ৪৭৩৯)

সগিরা গুনাহ্ তো বিভিন্ন নেক আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। আর ছগিরা গুনাহের কারণে আল্লাহ তাআলা কাউকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না; কিন্তু একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাশরের ময়দানে কবিরা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

শত আফসোস, প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! একটু ভেবে দেখুন আমাদের প্রিয় নবীর কথা? তিনি আমাদের মায়া ও ভালোবাসায় কত কষ্ট সহ্য করেছেন। আমাদের জন্য তিনি মহান প্রভুর দরবারে কত রাত বিনিদ্র থেকে ক্রন্দন করেছেন। 

আর এখন তিনি রওজা মোবারকে আমাদের জন্য ইস্তেগফার করছেন। রোজ হাশরে উঠেই তিনি আমাদের জন্য পেরেশান হয়ে যাবেন। সবাই যখন ‘নাফসি নাফসি’ বলে কাঁদবে তখন তিনি উম্মাতি, উম্মাতি, উম্মাতি বলে কাঁদবেন। 

সেই নবীর কথা কি আমার আপনার মনে থাকে? নবীজি তো আমাদের কথা ভুলেন নি। তাহলে আমরা যে তাকে ভুলে গেলাম? নবীজি আমাদের চিন্তায় অস্থির। আমরা তো নিজেদের ব্যাপারেও কোনো চিন্তা করি না। আফসোস, আমাদের উপর শত আফসোস।

তাই আসুন! প্রিয় নবীর ভালোবাসা ও মোহাব্বত বুকে ধারণ করি। আমাদের প্রতি নবীজির এ অগাধ ভালোবাসার কিছুটা হলেও মূল্যায়ন করি। তিনি আমাদের ভালোবাসবেন আর আমরা তাকে ভালোবাসবো না এটা কেমন কথা?তিনি আমাদের জন্য চোখের অশ্রু ঝরাবেন আর আমরা তার কথা একবারও স্মরণ করবো না, এটা কেমন জুলুমের কথা? 

তাকে ভালোবাসতে শিখি। তাকে মোহাব্বত করতে শুরু করি। তার মুহাব্বতের মাঝেই রয়েছে আমাদের মুক্তি। আমাদের চির শান্তি। আমাদের উভয় জগতের উন্নতি ও সফলতা। সুতরাং আর বিলম্ব না করে আসুন! দল, মত নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালোবাসা এবং তার আনুগত্য করার প্রতিজ্ঞা করি।

তথ্যসূত্র: উম্মতের প্রতি নবীজির ভালোবাসা পৃ: ৪৩-৪৪
লেখক: মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুছ  সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা 
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ 
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনতে বিএনপির তৎপরতা: না মানলে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

রোজ হাশরে যেভাবে শাফায়াত করবেন নবীজি

আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

যেমন, তিনি ইরশাদ করেন-شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي রোজ হাশরে আমার সুপারিশ আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস- ৪৭৩৯)

সগিরা গুনাহ্ তো বিভিন্ন নেক আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। আর ছগিরা গুনাহের কারণে আল্লাহ তাআলা কাউকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না; কিন্তু একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাশরের ময়দানে কবিরা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

শত আফসোস, প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! একটু ভেবে দেখুন আমাদের প্রিয় নবীর কথা? তিনি আমাদের মায়া ও ভালোবাসায় কত কষ্ট সহ্য করেছেন। আমাদের জন্য তিনি মহান প্রভুর দরবারে কত রাত বিনিদ্র থেকে ক্রন্দন করেছেন। 

আর এখন তিনি রওজা মোবারকে আমাদের জন্য ইস্তেগফার করছেন। রোজ হাশরে উঠেই তিনি আমাদের জন্য পেরেশান হয়ে যাবেন। সবাই যখন ‘নাফসি নাফসি’ বলে কাঁদবে তখন তিনি উম্মাতি, উম্মাতি, উম্মাতি বলে কাঁদবেন। 

সেই নবীর কথা কি আমার আপনার মনে থাকে? নবীজি তো আমাদের কথা ভুলেন নি। তাহলে আমরা যে তাকে ভুলে গেলাম? নবীজি আমাদের চিন্তায় অস্থির। আমরা তো নিজেদের ব্যাপারেও কোনো চিন্তা করি না। আফসোস, আমাদের উপর শত আফসোস।

তাই আসুন! প্রিয় নবীর ভালোবাসা ও মোহাব্বত বুকে ধারণ করি। আমাদের প্রতি নবীজির এ অগাধ ভালোবাসার কিছুটা হলেও মূল্যায়ন করি। তিনি আমাদের ভালোবাসবেন আর আমরা তাকে ভালোবাসবো না এটা কেমন কথা?তিনি আমাদের জন্য চোখের অশ্রু ঝরাবেন আর আমরা তার কথা একবারও স্মরণ করবো না, এটা কেমন জুলুমের কথা? 

তাকে ভালোবাসতে শিখি। তাকে মোহাব্বত করতে শুরু করি। তার মুহাব্বতের মাঝেই রয়েছে আমাদের মুক্তি। আমাদের চির শান্তি। আমাদের উভয় জগতের উন্নতি ও সফলতা। সুতরাং আর বিলম্ব না করে আসুন! দল, মত নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালোবাসা এবং তার আনুগত্য করার প্রতিজ্ঞা করি।

তথ্যসূত্র: উম্মতের প্রতি নবীজির ভালোবাসা পৃ: ৪৩-৪৪
লেখক: মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুছ  সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা 
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ 
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ