রমজান মাস কেবল ইবাদত-বন্দেগি আর পুণ্য অর্জনেরই মাস নয়, বরং এটি পাপমুক্ত জীবনের এক অমূল্য প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আত্মশুদ্ধির জন্য ইবাদতে বেশি মনোনিবেশ করেন। রোজা রাখা, তারাবিহ নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা প্রদান এবং দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভের আকাঙ্ক্ষা সবার মনেই প্রবল থাকে। তবে এসব আধ্যাত্মিক অনুশীলনের পাশাপাশি রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণে সব ধরনের পাপ ও পাপাচার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাও অত্যন্ত জরুরি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা রোজা ফরজ করার মূল কারণ হিসেবে তাকওয়া অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হও।” তাকওয়ার মূল ভিত্তি হলো অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা এবং তাঁর কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে সব ধরনের নাফরমানি ও অবাধ্যতা থেকে নিজেকে সংযত রাখা।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও রোজায় গুনাহ বর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখে অসত্য কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারি) অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, “তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল ভাষায় কথা না বলে এবং চিৎকার করে বাক্যবিনিময় না করে। তথাপি কেউ যদি তার সঙ্গে বিবাদ-ঝগড়ায় লিপ্ত হয় কিংবা লড়াই করতে আসে, তাহলে (অনাগ্রহ দেখিয়ে) বলবে, আমি রোজাদার।” (প্রাগুক্ত) অনেক সময় আমরা নিজেরা মন্দ কথা না বললেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে সংযম হারাতে পারি। এমতাবস্থায় করণীয় কী, তাও হাদিসে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, রোজার মাসে ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি ফরজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক জীবনেও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া আবশ্যক। আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন কেউ কষ্ট না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সে প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যেরা নিরাপদ থাকে।” (মুসলিম)
তাই, গিবত-পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, মিথ্যাচার, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ এবং অন্যের সম্পদ আত্মসাৎসহ সকল প্রকার অন্যায়-অপকর্ম থেকে রমজানে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। বস্তুত, রমজান মাস আমাদের সারা বছরের জন্য এমন একটি পাপাচার ও অনাচারমুক্ত, উন্নত জীবন যাপনের অনুশীলনের সুযোগ করে দেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























