ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাপ্তাইয়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট: এক কলস পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথচলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি মাহাজন পাড়ায় সুপেয় পানির অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৬৯টি পরিবারের সদস্যরা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় এই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সমস্যায় ওই এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এই পাড়ার মানুষের পানির প্রধান উৎস হলো পাহাড়ি ঝরনা ও ছড়া। তবে বছরের এই সময়ে ঝরনা ও ছড়ার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো স্থায়ী পানির ব্যবস্থা না থাকায় রান্নাবান্না ও পানের উপযোগী নিরাপদ পানির জন্য প্রতিদিন নারী ও শিশুদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দুর্গম পথ।

পানির এই তীব্র সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এর ফলে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। নিরাপদ পানির অভাব এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহের ক্লান্তি—সব মিলিয়ে এলাকাটি এখন এক মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।

মাহাজন পাড়ার স্থানীয় কার্বারী ফাইমং জানান, পানির কষ্টের পাশাপাশি এই এলাকার যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনুন্নত রাস্তার কারণে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, একটি স্থায়ী সুপেয় পানির উৎস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই কষ্ট দূর হবে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে শোরুম ম্যানেজারের মর্মান্তিক মৃত্যু

কাপ্তাইয়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট: এক কলস পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথচলা

আপডেট সময় : ০২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি মাহাজন পাড়ায় সুপেয় পানির অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৬৯টি পরিবারের সদস্যরা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় এই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সমস্যায় ওই এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এই পাড়ার মানুষের পানির প্রধান উৎস হলো পাহাড়ি ঝরনা ও ছড়া। তবে বছরের এই সময়ে ঝরনা ও ছড়ার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো স্থায়ী পানির ব্যবস্থা না থাকায় রান্নাবান্না ও পানের উপযোগী নিরাপদ পানির জন্য প্রতিদিন নারী ও শিশুদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দুর্গম পথ।

পানির এই তীব্র সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এর ফলে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। নিরাপদ পানির অভাব এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহের ক্লান্তি—সব মিলিয়ে এলাকাটি এখন এক মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।

মাহাজন পাড়ার স্থানীয় কার্বারী ফাইমং জানান, পানির কষ্টের পাশাপাশি এই এলাকার যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনুন্নত রাস্তার কারণে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, একটি স্থায়ী সুপেয় পানির উৎস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই কষ্ট দূর হবে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।