দেশের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও একের পর এক ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে ধরনের নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা কেবল প্রচলিত আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে না, বরং আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, তুচ্ছ ঘটনা কিংবা স্রেফ সন্দেহের বশে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ জনপদে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলো এখন প্রাত্যহিক সংবাদে পরিণত হয়েছে। কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই একজনকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো নিষ্ঠুরতা সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন এখন প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে। এই এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে কেবল উন্মত্ত জনতার আক্রোশে, যা কোনো সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ মানুষকে সহিংস করে তুলছে। যখন মানুষ মনে করে অপরাধের সঠিক বিচার হবে না বা তাৎক্ষণিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই সমাধানের পথ, তখনই এ ধরনের বর্বরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভুক্তভোগীদের ওপর যে মাত্রায় নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা নিষ্ঠুরতার সব সীমা অতিক্রম করেছে। এমনকি মৃতদেহের প্রতি অবমাননার মতো ঘটনাও জনসমক্ষে ঘটেছে, যা আমাদের সম্মিলিত বিবেককে দংশন করছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এখন রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি স্থিতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কেবল আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা বাড়ানো জরুরি। নিষ্ঠুরতার এই ভয়াবহ ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশ ও জাতির জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নাগরিক সমাজ আশা করছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
রিপোর্টারের নাম 























