আগামী ৩ মার্চ রাতের আকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। এই দিনে ঘটবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যখন চাঁদ রক্তিম আভা ছড়াবে, যা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। ২০২৬ সালের এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যার এমন দৃশ্য আবারও দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত।
বিশ্বের একটি বিশাল অংশ থেকে এই মনোমুগ্ধকর চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলের মানুষ এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারবেন। এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ স্থায়ী হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিনিট। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। তবে অঞ্চলভেদে দৃশ্যমানতার সময় ভিন্ন হবে; উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলায় এবং পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দৃশ্যমান হবে।
বিজ্ঞানীরা জানান, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমত, চাঁদ যখন পৃথিবীর হালকা ছায়ার (পেনাম্ব্রা) ভেতর প্রবেশ করে, তখন এর উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে আসে। এরপর চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার (উম্ব্রা) ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে তা ঢেকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোয় তা লালচে বা রক্তিম রং ধারণ করে। এই কারণেই একে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে উপভোগ করা যাবে। সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদের পৃষ্ঠের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। যারা ব্লাড মুনের রক্তিম আভা সবচেয়ে ভালোভাবে দেখতে চান, তাদের জন্য শহর থেকে দূরে, যেখানে আলোক দূষণ কম, এমন স্থান বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























