ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে কিশোরী আমেনাকে গণধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে (১৫) পালাক্রমে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আজ শনিবার বেলা ১১টায় নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা থেকে মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা (২৮) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি মাধবদী থানার হোসেন বাজার এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব ও জেলা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জন সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং বাকি ৫ জনের বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া ও সালিশের নামে কালক্ষেপণ করার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নূর মোহাম্মদ নূরা, ওবায়দুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার নামের চার ব্যক্তি আমেনাকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিনি এবং তার সহযোগীরা সুষ্ঠু বিচার না করে উল্টো আমেনার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রভাবশালীদের এমন আচরণে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তার প্রয়োজনে আমেনাকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তার সৎ বাবা আশরাফুল। পথিমধ্যে কোতোয়ালির চর করইতলা এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা আবারও আমেনাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। নিখোঁজের পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে চর দরিকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অপহরণের পর নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে তাকে পুনরায় গণধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা আফিয়া বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে শোরুম ম্যানেজারের মর্মান্তিক মৃত্যু

নরসিংদীতে কিশোরী আমেনাকে গণধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭

আপডেট সময় : ০২:৪২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে (১৫) পালাক্রমে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আজ শনিবার বেলা ১১টায় নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা থেকে মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা (২৮) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি মাধবদী থানার হোসেন বাজার এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব ও জেলা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জন সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং বাকি ৫ জনের বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া ও সালিশের নামে কালক্ষেপণ করার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নূর মোহাম্মদ নূরা, ওবায়দুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার নামের চার ব্যক্তি আমেনাকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিনি এবং তার সহযোগীরা সুষ্ঠু বিচার না করে উল্টো আমেনার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রভাবশালীদের এমন আচরণে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তার প্রয়োজনে আমেনাকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তার সৎ বাবা আশরাফুল। পথিমধ্যে কোতোয়ালির চর করইতলা এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা আবারও আমেনাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। নিখোঁজের পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে চর দরিকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অপহরণের পর নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে তাকে পুনরায় গণধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা আফিয়া বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।