ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুস্বাস্থ্য, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের সমন্বিত দর্শন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## সংযম, সুস্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণের সমন্বিত দর্শন: রোজা

ভূমিকা:

রোজা, যা আরবি শব্দ ‘সাওম’ থেকে উদ্ভূত, তার মূল অর্থ হলো সংযম, বিরত থাকা বা আত্মনিয়ন্ত্রণ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আরাধনাই নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, আত্মশুদ্ধি এবং মানবকল্যাণের এক গভীর ও সমন্বিত দর্শন। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, পাপাচার এবং জৈবিক চাহিদা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকাই রোজা। ইসলামের দ্বিতীয় হিজরি বর্ষে রোজা ফরজ করা হয় এবং এটি আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসুলের জীবনেই আধ্যাত্মিক সাধনার একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। পবিত্র কোরআনে রোজার মূল লক্ষ্য হিসেবে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য:

রমজানের রোজা যদিও মূলত ইবাদত, তবে আধুনিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞানে এর বহুবিধ উপকারিতা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, নির্দিষ্ট সময় খাদ্যবিরতি শরীরকে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করে, যা বিপাক ক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করে এবং কোষীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উপবাসকে ‘অটোফেজি’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেখানে সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ভেঙে শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। এই গুরুত্বপূর্ণ কোষীয় প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা উপবাস ও রোজার বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে বিশ্বজুড়ে নতুনভাবে আলোচিত করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সময়-নির্দিষ্ট উপবাস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, অতিরিক্ত চর্বি হ্রাসে সহায়ক, প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে, কোষের পুনর্নবীকরণ ত্বরান্বিত করে এবং হৃদরোগ ও বিপাকজনিত ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, যার সঙ্গে ইসলামি রোজার সময়ভিত্তিক সংযমের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

পরিপাকতন্ত্র, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিষমুক্তকরণ:

খাদ্যবিরতির ফলে পরিপাকতন্ত্র নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম পায়, যা হজমশক্তি পুনর্গঠনে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা কমাতে সহায়ক। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রমজানে অনেক রোজাদারের ওজন ধীরে ও নিরাপদে হ্রাস পায় এবং পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। বহু চিকিৎসাবিদ মত দিয়েছেন যে, উপবাস শরীরে জমে থাকা কিছু বিপাকীয় বর্জ্য ও টক্সিন অপসারণেও সহায়ক। ১৭৬৯ সালে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পিটার ভেনিয়ামিভ রোজা (Fasting) নিয়ে একটি রিপোর্টে উপবাসের উপকারিতা উল্লেখ করেছিলেন, কারণ এটি পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দিয়ে সুস্থ ও কার্যক্ষম করে তোলে। লুট জানা’র মতে, খাবার থেকে বছরজুড়ে শরীরে জমে থাকা টক্সিন (Toxin) এবং চর্বি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ও স্বাভাবিক উপায় হলো উপবাস। রোজা রাখার ফলে শরীর সতেজ হয়, কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার সম্ভাবনা জোরদার হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক প্রভাব:

রোজা কেবল শারীরিক অনুশীলন নয়, এটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণও বটে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ মানুষের আত্মসংযম, ধৈর্য এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বিলম্বিত তৃপ্তি অর্জন’-এর একটি কার্যকর অনুশীলন, যা ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানসিক স্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুড লুটজানার তার ‘The Secret of Successful Fasting’ গ্রন্থে বছরে কিছুদিন উপবাস বা রোজা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, রোজা শরীরকে নীরোগ, কর্মক্ষম ও দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করে। কায়রো থেকে প্রকাশিত ‘Science Calls for Fasting’ গ্রন্থে পাশ্চাত্যের চিকিৎসাবিদরা স্বীকার করেছেন যে, উপবাসের সময় শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রোজা শেষে শরীর যেন নতুনভাবে জন্ম নেয়। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড নারায়ণ বলেন, রোজা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্কের রোগ নিরাময়ে সহায়ক।

রমজান সামাজিক ন্যায়বোধ ও মানবিক সংহতিকেও জাগ্রত করে। দরিদ্রের কষ্ট অনুধাবন, দান-সদকা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হওয়া—এসবই রোজার সামষ্টিক কল্যাণধর্মী দিক।

ধর্মীয় অনুশাসন ও মানবকল্যাণের সেতুবন্ধ:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, আল্লাহ তার আগের গুনাহ মাফ করে দেন (বুখারি ও মুসলিম)। এই আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানও রোজার বহু স্বাস্থ্যগত সুফল নির্দেশ করছে।

অতএব, রোজা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্থিতি এবং সামাজিক ন্যায়বোধের সমন্বিত জীবনপদ্ধতি। দেড় হাজার বছর আগে প্রবর্তিত এই ইবাদত আজও মানবস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার আলোচনায় প্রাসঙ্গিক—বরং নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

(এই নিবন্ধটি একটি খসড়া আর্টিকেলের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে এবং এটি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর ও নিউজ রাইটারের পেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি করা হয়েছে।)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

সুস্বাস্থ্য, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের সমন্বিত দর্শন

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## সংযম, সুস্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণের সমন্বিত দর্শন: রোজা

ভূমিকা:

রোজা, যা আরবি শব্দ ‘সাওম’ থেকে উদ্ভূত, তার মূল অর্থ হলো সংযম, বিরত থাকা বা আত্মনিয়ন্ত্রণ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আরাধনাই নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, আত্মশুদ্ধি এবং মানবকল্যাণের এক গভীর ও সমন্বিত দর্শন। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, পাপাচার এবং জৈবিক চাহিদা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকাই রোজা। ইসলামের দ্বিতীয় হিজরি বর্ষে রোজা ফরজ করা হয় এবং এটি আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসুলের জীবনেই আধ্যাত্মিক সাধনার একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। পবিত্র কোরআনে রোজার মূল লক্ষ্য হিসেবে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য:

রমজানের রোজা যদিও মূলত ইবাদত, তবে আধুনিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞানে এর বহুবিধ উপকারিতা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, নির্দিষ্ট সময় খাদ্যবিরতি শরীরকে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করে, যা বিপাক ক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করে এবং কোষীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উপবাসকে ‘অটোফেজি’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেখানে সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ভেঙে শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। এই গুরুত্বপূর্ণ কোষীয় প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা উপবাস ও রোজার বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে বিশ্বজুড়ে নতুনভাবে আলোচিত করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সময়-নির্দিষ্ট উপবাস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, অতিরিক্ত চর্বি হ্রাসে সহায়ক, প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে, কোষের পুনর্নবীকরণ ত্বরান্বিত করে এবং হৃদরোগ ও বিপাকজনিত ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, যার সঙ্গে ইসলামি রোজার সময়ভিত্তিক সংযমের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

পরিপাকতন্ত্র, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিষমুক্তকরণ:

খাদ্যবিরতির ফলে পরিপাকতন্ত্র নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম পায়, যা হজমশক্তি পুনর্গঠনে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা কমাতে সহায়ক। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রমজানে অনেক রোজাদারের ওজন ধীরে ও নিরাপদে হ্রাস পায় এবং পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। বহু চিকিৎসাবিদ মত দিয়েছেন যে, উপবাস শরীরে জমে থাকা কিছু বিপাকীয় বর্জ্য ও টক্সিন অপসারণেও সহায়ক। ১৭৬৯ সালে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পিটার ভেনিয়ামিভ রোজা (Fasting) নিয়ে একটি রিপোর্টে উপবাসের উপকারিতা উল্লেখ করেছিলেন, কারণ এটি পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দিয়ে সুস্থ ও কার্যক্ষম করে তোলে। লুট জানা’র মতে, খাবার থেকে বছরজুড়ে শরীরে জমে থাকা টক্সিন (Toxin) এবং চর্বি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ও স্বাভাবিক উপায় হলো উপবাস। রোজা রাখার ফলে শরীর সতেজ হয়, কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার সম্ভাবনা জোরদার হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক প্রভাব:

রোজা কেবল শারীরিক অনুশীলন নয়, এটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণও বটে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ মানুষের আত্মসংযম, ধৈর্য এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বিলম্বিত তৃপ্তি অর্জন’-এর একটি কার্যকর অনুশীলন, যা ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানসিক স্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুড লুটজানার তার ‘The Secret of Successful Fasting’ গ্রন্থে বছরে কিছুদিন উপবাস বা রোজা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, রোজা শরীরকে নীরোগ, কর্মক্ষম ও দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করে। কায়রো থেকে প্রকাশিত ‘Science Calls for Fasting’ গ্রন্থে পাশ্চাত্যের চিকিৎসাবিদরা স্বীকার করেছেন যে, উপবাসের সময় শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রোজা শেষে শরীর যেন নতুনভাবে জন্ম নেয়। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড নারায়ণ বলেন, রোজা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্কের রোগ নিরাময়ে সহায়ক।

রমজান সামাজিক ন্যায়বোধ ও মানবিক সংহতিকেও জাগ্রত করে। দরিদ্রের কষ্ট অনুধাবন, দান-সদকা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হওয়া—এসবই রোজার সামষ্টিক কল্যাণধর্মী দিক।

ধর্মীয় অনুশাসন ও মানবকল্যাণের সেতুবন্ধ:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, আল্লাহ তার আগের গুনাহ মাফ করে দেন (বুখারি ও মুসলিম)। এই আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানও রোজার বহু স্বাস্থ্যগত সুফল নির্দেশ করছে।

অতএব, রোজা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্থিতি এবং সামাজিক ন্যায়বোধের সমন্বিত জীবনপদ্ধতি। দেড় হাজার বছর আগে প্রবর্তিত এই ইবাদত আজও মানবস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার আলোচনায় প্রাসঙ্গিক—বরং নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

(এই নিবন্ধটি একটি খসড়া আর্টিকেলের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে এবং এটি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর ও নিউজ রাইটারের পেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি করা হয়েছে।)