জ্ঞান, বিদ্যা ও সৃজনশীলতার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী তিথিতে প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে পালিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসব।
সকাল থেকেই জগন্নাথ হলের সুবিশাল মাঠে ৭৬টি পূজামণ্ডপে ভক্তরা অঞ্জলি, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে বিদ্যার দেবীর বন্দনা করছেন। বাণী অর্চনা ও আরতির সুরধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা, যা এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে এবার হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোট ৭৬টি মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মণ্ডপ তৈরি করেছে, পাশাপাশি হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুটি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব ভাবনা, সামাজিক অঙ্গীকার ও সৃজনশীলতার মিশেলে মণ্ডপগুলো সাজিয়েছেন। অধিকাংশ মণ্ডপেই ছিল নির্দিষ্ট থিমের প্রতিফলন। যেমন, ফাইন্যান্স বিভাগ আলোকসজ্জা ও আলপনার মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালতা ও জ্ঞানের অসীমতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, ইংরেজি বিভাগ সম্পূর্ণ হাতে আঁকা শিল্পকর্ম দিয়ে তাদের মণ্ডপকে দৃষ্টিনন্দন করেছে। প্রতিটি মণ্ডপেই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্ভাবনী শক্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট।
বরাবরের মতোই এ বছরও জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝখানে স্থাপিত প্রতিমাটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ কেড়েছে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের শিল্পদক্ষতা ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা নির্মাণ করেছেন।
এবারের পূজায় ব্যতিক্রমী থিমের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মণ্ডপ। বিভাগটি এ বছর গণমাধ্যমের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করে মণ্ডপ নির্মাণ করেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এবারের মূল থিম ‘মবতন্ত্র’ এবং গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক আঘাতের প্রতীকী প্রতিবাদ।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা কেবল থেমে থাকা কলম কিংবা পোড়া সংবাদপত্রের কথা বলিনি। হরিজন সম্প্রদায়, চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে নিহত নিষ্পাপ শিশুদের যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরতে চেয়েছি। আমাদের বার্তা হলো— যুদ্ধ নয়, শান্তি; মব নয়, সুবিচার।”
বিভাগের আরেক আয়োজক ও শিক্ষার্থী আনুষ্কা চক্রবর্তী বলেন, “সরস্বতী পূজায় আমরা দেবীর কাছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন ও সৃজনশীলতা কামনা করি। এর পাশাপাশি সমাজের চলমান অনিয়ম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোও আমাদের দায়িত্ব।”
এদিকে, প্রতি বছর পূজার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হলেও এ বছর তা করা হয়নি। এ বিষয়ে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানান, “সময় স্বল্পতার কারণে এবার সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং মণ্ডপ এলাকায় স্থাপিত বড় বিলবোর্ডের মাধ্যমে সব নির্দেশনা জানানো হয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 

























