ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক বলয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা: সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে এই শিক্ষকরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছেন।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে অনেক প্রাথমিক শিক্ষক স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বহু প্রাথমিক শিক্ষক নিজ নিজ এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছেন। এর ফলে, এই শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনীতির এই প্রভাব প্রাথমিক শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলছে।

কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

উদাহরণস্বরূপ, কুড়িগ্রামের রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিবুল হক বসুনিয়া নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। এমনকি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি কমিটির তালিকায় এক নম্বর সদস্য হিসেবে তার নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে মনিবুল হক বসুনিয়া জানিয়েছেন, এনসিপিতে পদ থাকলেও গত চার মাস ধরে তিনি সেভাবে সক্রিয় নন। সরকারি চাকরি করার কারণে নানা চাপ রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত আছেন। চাকরিতে ফিরে আসা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি আরও বলেন, ছাত্রাবস্থায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ৫ আগস্ট এনসিপিতে যোগ দেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছাটকালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরকে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা গেছে। এছাড়া, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার শিক্ষক হাফিজুর রহমান জুয়েল এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুড়িগ্রামের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধু তার জেলাতেই প্রায় ডজনখানেক শিক্ষক নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষকই “যা খুশি করুক, চাকরি যাবে না” এমন ধারণা পোষণ করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা: স্কুলছাত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু

রাজনৈতিক বলয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা: সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড

আপডেট সময় : ১১:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে এই শিক্ষকরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছেন।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে অনেক প্রাথমিক শিক্ষক স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বহু প্রাথমিক শিক্ষক নিজ নিজ এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছেন। এর ফলে, এই শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনীতির এই প্রভাব প্রাথমিক শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলছে।

কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

উদাহরণস্বরূপ, কুড়িগ্রামের রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিবুল হক বসুনিয়া নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। এমনকি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি কমিটির তালিকায় এক নম্বর সদস্য হিসেবে তার নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে মনিবুল হক বসুনিয়া জানিয়েছেন, এনসিপিতে পদ থাকলেও গত চার মাস ধরে তিনি সেভাবে সক্রিয় নন। সরকারি চাকরি করার কারণে নানা চাপ রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত আছেন। চাকরিতে ফিরে আসা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি আরও বলেন, ছাত্রাবস্থায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ৫ আগস্ট এনসিপিতে যোগ দেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছাটকালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরকে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা গেছে। এছাড়া, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার শিক্ষক হাফিজুর রহমান জুয়েল এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুড়িগ্রামের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধু তার জেলাতেই প্রায় ডজনখানেক শিক্ষক নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষকই “যা খুশি করুক, চাকরি যাবে না” এমন ধারণা পোষণ করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।