ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুরোনো সিলেবাসে স্নাতকধারীদের ৪০ শতাংশই হতাশ: উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করার ঘোষণা উপাচার্যের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের গতানুগতিক ও পুরোনো সিলেবাসের কারণে ডিগ্রি অর্জনের পর বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান নিয়ে হতাশায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করলেও তাদের অন্তত ৪০ শতাংশই চাকরির বাজারে গিয়ে প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। এই সংকট নিরসনে উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সরকারি কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়ন বিষয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে দেশে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হলেও বাংলাদেশ সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থবিরতা কাটাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে সিলেবাস সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। নতুন এই পরিকল্পনায় স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইংরেজি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষার আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময়ের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি ও শিক্ষা সহায়তা দিচ্ছে।

দক্ষ জনবল তৈরির পথে অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে উপাচার্য বলেন, দেশে বিশাল জনসংখ্যা থাকলেও দক্ষ জনশক্তির তীব্র সংকট রয়েছে। এর মূল কারণ হলো শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাব। স্বাধীনতার পর থেকে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সেভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিন পার্বত্য জেলার কলেজ অধ্যক্ষরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। উপাচার্য তাদের সকল পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনায় এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল অঞ্চলের কলেজগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা: স্কুলছাত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু

পুরোনো সিলেবাসে স্নাতকধারীদের ৪০ শতাংশই হতাশ: উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করার ঘোষণা উপাচার্যের

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের গতানুগতিক ও পুরোনো সিলেবাসের কারণে ডিগ্রি অর্জনের পর বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান নিয়ে হতাশায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করলেও তাদের অন্তত ৪০ শতাংশই চাকরির বাজারে গিয়ে প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। এই সংকট নিরসনে উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সরকারি কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়ন বিষয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে দেশে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হলেও বাংলাদেশ সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থবিরতা কাটাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে সিলেবাস সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। নতুন এই পরিকল্পনায় স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইংরেজি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষার আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময়ের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি ও শিক্ষা সহায়তা দিচ্ছে।

দক্ষ জনবল তৈরির পথে অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে উপাচার্য বলেন, দেশে বিশাল জনসংখ্যা থাকলেও দক্ষ জনশক্তির তীব্র সংকট রয়েছে। এর মূল কারণ হলো শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাব। স্বাধীনতার পর থেকে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সেভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিন পার্বত্য জেলার কলেজ অধ্যক্ষরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। উপাচার্য তাদের সকল পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনায় এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল অঞ্চলের কলেজগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।