ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে ‘ডনরোনীতি’: ট্রাম্পের আগ্রাসী কৌশল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণের হুমকি, কলম্বিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি অথবা গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড করার প্রকাশ্য ঘোষণা—এগুলো আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন বা অস্বাভাবিক মনে হলেও, বিশ্লেষকরা এর পেছনে এক সুগভীর ও সুপরিকল্পিত কৌশল দেখছেন। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক ও আগ্রাসী সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত এই কৌশলকে অনেকে ‘ডনরোনীতি’ নামে অভিহিত করছেন, যার মূল লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

একসময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ঘোষিত ‘মনরো নীতি’ পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় শক্তির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে এই নীতি ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই নীতিকেই এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন, যা তাঁর নিজের ভাষ্যে ‘অনেক, অনেক বেশি কিছু’। তিনি বলেছেন, ‘মনরো মতবাদ একটি বিরাট ব্যাপার, কিন্তু আমরা এটিকে অনেক, অনেক বেশি করে ছাড়িয়ে গিয়েছি…। তারা এখন এটিকে ডনরো মতবাদ বলে। পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।’ এই ‘ডনরোনীতি’ কেবল একজন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং বিশ্ব মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী অবস্থানের মূলে রয়েছে ভবিষ্যতের জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ। একসময় কয়লা ও তেলের জন্য ‘গানবোট ডিপ্লোমেসি’ প্রচলিত থাকলেও, এখন লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লিথিয়াম, কপার, গ্রাফাইট ও গ্যালিয়ামের মতো দুর্লভ খনিজ সম্পদ। ব্যাটারি উৎপাদন, ড্রোন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য এসব খনিজ অপরিহার্য। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল মজুত থাকার পাশাপাশি রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গ্যালিয়াম। একইভাবে পুরো লাতিন আমেরিকায় পৃথিবীর ৬০ শতাংশ লিথিয়াম এবং ৪০ শতাংশ কপার মজুত রয়েছে।

তবে এই বিপুল খনিজ সম্পদের একটি বড় অংশ বর্তমানে চীনের নিয়ন্ত্রণে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীন লাতিন আমেরিকায় প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যখন ১ ডলার ঋণ দিয়েছে, চীন সেখানে দিয়েছে ৩ ডলার। এর ফলে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ওয়াশিংটনের যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল, তা অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে চীন ও লাতিন আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বেইজিংয়ের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করে নিজের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেবল দক্ষিণ আমেরিকার দিকেই নয়, উত্তর মেরুর গ্রিনল্যান্ডের দিকেও বিস্তৃত। আর্কটিক মহাসাগরের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের। ১৯৪৬ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করেছিলেন, আর এখন ট্রাম্প সেই প্রচেষ্টা সফল করতে চাইছেন। আর্কটিক মহাসাগর প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া থেকে পৃথক করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণায়নের ফলে বৈজ্ঞানিক মডেলগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে আর্কটিক মহাসাগর গ্রীষ্মকালে প্রায় বরফমুক্ত হয়ে যাবে। তখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ এই নতুন রুট দিয়ে সম্পন্ন হবে।

এছাড়াও গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। বর্তমানে আর্কটিকের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে, তবে তারা ‘জিআইইউকে গ্যাপ’ (গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সংযোগকারী সমুদ্রপথ) নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন বা ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখতে মেরু অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ডই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেরা কৌশলগত অবস্থান। ট্রাম্পের ভাষ্যে, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডে কিছু একটা করতে যাচ্ছি, তারা পছন্দ করুক বা না করুক আমরা এটি করব, কারণ আমরা যদি তা না করি, তাহলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করবে এবং আমরা আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া বা চীনকে চাই না।’

সুতরাং, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ডকে আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভট বা পাগলামি মনে হলেও, এগুলো আসলে আমেরিকার আগামী ৫০ বছরের প্রভাব বিস্তারের একটি নিপুণ ব্লু-প্রিন্ট। লাতিন আমেরিকার দুর্লভ খনিজ সম্পদ এবং আর্কটিকের কৌশলগত অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে চীন-রাশিয়া জোটের সামনে ওয়াশিংটন তার বৈশ্বিক ‘হেজেমনিক’ অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। ‘ডনরোনীতি’ তাই ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখার এক মরণপণ প্রচেষ্টারই প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কড়া বার্তা: আত্মরক্ষায় তেহরান প্রস্তুত, ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি

বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে ‘ডনরোনীতি’: ট্রাম্পের আগ্রাসী কৌশল

আপডেট সময় : ০৯:২৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণের হুমকি, কলম্বিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি অথবা গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড করার প্রকাশ্য ঘোষণা—এগুলো আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন বা অস্বাভাবিক মনে হলেও, বিশ্লেষকরা এর পেছনে এক সুগভীর ও সুপরিকল্পিত কৌশল দেখছেন। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক ও আগ্রাসী সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত এই কৌশলকে অনেকে ‘ডনরোনীতি’ নামে অভিহিত করছেন, যার মূল লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

একসময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ঘোষিত ‘মনরো নীতি’ পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় শক্তির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে এই নীতি ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই নীতিকেই এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন, যা তাঁর নিজের ভাষ্যে ‘অনেক, অনেক বেশি কিছু’। তিনি বলেছেন, ‘মনরো মতবাদ একটি বিরাট ব্যাপার, কিন্তু আমরা এটিকে অনেক, অনেক বেশি করে ছাড়িয়ে গিয়েছি…। তারা এখন এটিকে ডনরো মতবাদ বলে। পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।’ এই ‘ডনরোনীতি’ কেবল একজন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং বিশ্ব মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী অবস্থানের মূলে রয়েছে ভবিষ্যতের জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ। একসময় কয়লা ও তেলের জন্য ‘গানবোট ডিপ্লোমেসি’ প্রচলিত থাকলেও, এখন লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লিথিয়াম, কপার, গ্রাফাইট ও গ্যালিয়ামের মতো দুর্লভ খনিজ সম্পদ। ব্যাটারি উৎপাদন, ড্রোন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য এসব খনিজ অপরিহার্য। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল মজুত থাকার পাশাপাশি রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গ্যালিয়াম। একইভাবে পুরো লাতিন আমেরিকায় পৃথিবীর ৬০ শতাংশ লিথিয়াম এবং ৪০ শতাংশ কপার মজুত রয়েছে।

তবে এই বিপুল খনিজ সম্পদের একটি বড় অংশ বর্তমানে চীনের নিয়ন্ত্রণে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীন লাতিন আমেরিকায় প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যখন ১ ডলার ঋণ দিয়েছে, চীন সেখানে দিয়েছে ৩ ডলার। এর ফলে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ওয়াশিংটনের যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল, তা অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে চীন ও লাতিন আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বেইজিংয়ের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করে নিজের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেবল দক্ষিণ আমেরিকার দিকেই নয়, উত্তর মেরুর গ্রিনল্যান্ডের দিকেও বিস্তৃত। আর্কটিক মহাসাগরের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের। ১৯৪৬ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করেছিলেন, আর এখন ট্রাম্প সেই প্রচেষ্টা সফল করতে চাইছেন। আর্কটিক মহাসাগর প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া থেকে পৃথক করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণায়নের ফলে বৈজ্ঞানিক মডেলগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে আর্কটিক মহাসাগর গ্রীষ্মকালে প্রায় বরফমুক্ত হয়ে যাবে। তখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ এই নতুন রুট দিয়ে সম্পন্ন হবে।

এছাড়াও গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। বর্তমানে আর্কটিকের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে, তবে তারা ‘জিআইইউকে গ্যাপ’ (গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সংযোগকারী সমুদ্রপথ) নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন বা ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখতে মেরু অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ডই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেরা কৌশলগত অবস্থান। ট্রাম্পের ভাষ্যে, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডে কিছু একটা করতে যাচ্ছি, তারা পছন্দ করুক বা না করুক আমরা এটি করব, কারণ আমরা যদি তা না করি, তাহলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করবে এবং আমরা আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া বা চীনকে চাই না।’

সুতরাং, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ডকে আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভট বা পাগলামি মনে হলেও, এগুলো আসলে আমেরিকার আগামী ৫০ বছরের প্রভাব বিস্তারের একটি নিপুণ ব্লু-প্রিন্ট। লাতিন আমেরিকার দুর্লভ খনিজ সম্পদ এবং আর্কটিকের কৌশলগত অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে চীন-রাশিয়া জোটের সামনে ওয়াশিংটন তার বৈশ্বিক ‘হেজেমনিক’ অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। ‘ডনরোনীতি’ তাই ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখার এক মরণপণ প্রচেষ্টারই প্রতিচ্ছবি।