নারীবাদ কেবল লিঙ্গ সমতার লড়াই নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক তাত্ত্বিক চর্চা। বিশেষ করে উপনিবেশোত্তর বিশ্বে নারীর অভিজ্ঞতাকে কেবল পশ্চিমা চশমায় দেখা সম্ভব নয়। পশ্চিমা নারীবাদ যখন মূলত শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত নারীদের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, তখন তৃতীয় বিশ্বের নারীরা লড়াই করছিলেন জাতিগত শোষণ, দারিদ্র্য এবং ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এই ভিন্নধর্মী বাস্তবতার আলোকেই উদ্ভব হয়েছে ‘পোস্ট-কলোনিয়াল ফেমিনিজম’ বা উপনিবেশোত্তর নারীবাদ।
পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রায়ই তৃতীয় বিশ্বের নারীদের একপাক্ষিক ও পশ্চাৎপদ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এডওয়ার্ড সাঈদের ‘ওরিয়েন্টালিজম’ তত্ত্বের আলোকে দেখলে বোঝা যায়, কীভাবে পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রাচ্যের সংস্কৃতিকে বর্বর হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চেয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশরা নারী মুক্তির দোহাই দিয়ে তাদের শাসনকে বৈধতা দিতে চেয়েছিল। পর্দা প্রথা বা বাল্যবিবাহের মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে তারা নিজেদের ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে জাহির করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, উপনিবেশোত্তর নারীবাদ পিতৃতন্ত্রের পাশাপাশি বর্ণবাদ, শ্রেণি বৈষম্য এবং ধর্মীয় কাঠামোর জটিল সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করে। এটি শিখিয়েছে যে, নারীর মুক্তি কেবল লিঙ্গীয় সমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে তার ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাই নারীবাদকে সর্বজনীন হতে হলে অবশ্যই তৃতীয় বিশ্বের নারীদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























