ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

হাদি হত্যা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বয়ান: ফ্যাসিবাদের ছায়া ও সাংস্কৃতিক লড়াই

শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। হাদি হত্যার বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে বয়ান তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে সত্যের চেয়ে আদর্শিক লড়াই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যারা হাদিকে নিয়ে ভিন্ন কোনো তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত অতীতের সেই ফ্যাসিবাদী শিক্ষারই অনুসরণ করছেন, যেখানে প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য নেতিবাচক বিশেষণে বিশেষায়িত করা হতো।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং নির্দিষ্ট কিছু ‘চেতনা’র দোহাই দিয়ে যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার রেশ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের একটি অংশ যেভাবে সংবাদকে নির্দিষ্ট ফ্রেমে বন্দি করে প্রচার করছে, তা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে না দেখে তাকে রাজনৈতিক বা আদর্শিক তকমা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের অন্তরায়।

বর্তমানে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা মূলত পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। অতীতের মতো কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম বা সামাজিক শক্তিগুলো যদি ব্যবহৃত হতে থাকে, তবে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

হাদি হত্যা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বয়ান: ফ্যাসিবাদের ছায়া ও সাংস্কৃতিক লড়াই

আপডেট সময় : ১২:২৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। হাদি হত্যার বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে বয়ান তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে সত্যের চেয়ে আদর্শিক লড়াই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যারা হাদিকে নিয়ে ভিন্ন কোনো তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত অতীতের সেই ফ্যাসিবাদী শিক্ষারই অনুসরণ করছেন, যেখানে প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য নেতিবাচক বিশেষণে বিশেষায়িত করা হতো।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং নির্দিষ্ট কিছু ‘চেতনা’র দোহাই দিয়ে যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার রেশ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের একটি অংশ যেভাবে সংবাদকে নির্দিষ্ট ফ্রেমে বন্দি করে প্রচার করছে, তা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে না দেখে তাকে রাজনৈতিক বা আদর্শিক তকমা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের অন্তরায়।

বর্তমানে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা মূলত পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। অতীতের মতো কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম বা সামাজিক শক্তিগুলো যদি ব্যবহৃত হতে থাকে, তবে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।