তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হার কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আসন্ন জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাসের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডব়্প। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপরও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগের কারণে অকালে মৃত্যুবরণ করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশটি জারি করেছে, তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংসদে আইন আকারে পাস হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে তামাকের ব্যবহার ও উৎপাদন বাবদ দেশের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতির হিস্যা প্রায় ১৬ শতাংশ। একই সময়ে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ক্ষতির অর্ধেকেরও কম। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নই একমাত্র পথ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে তাদের বক্তব্যে বলেন, তামাক হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ, যা হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডব়্প-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























