সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। সন্ধ্যা থেকে ফের গোল চত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্বাচনের পথ সুগম না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
আন্দোলন চলাকালে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন। এর আগে সোমবার রাতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার পর প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক শিথিল করা হয়েছিল। ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের প্রার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরকার নির্বাচনের পক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ না ওঠা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ কাটছে না।
শাকসু নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির এই আইনি বাধাকে ‘ভোটাধিকার হরণের প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করলেও একটি মহলের ষড়যন্ত্রে আইনি মারপ্যাঁচে নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা চলছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চেম্বার আদালতে শাকসু নির্বাচনের পক্ষে ইতিবাচক রায় না আসা পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে জরুরি ভিত্তিতে আবেদন করেছে। তবে আদালত বিষয়টি জরুরি তালিকা থেকে নিয়মিত তালিকায় স্থানান্তর করেছেন। উপাচার্য বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বিষয়টি পুনরায় জরুরি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নির্বাচনের পথে থাকা বাধা দূর হয়।” আপাতত আদালতের পরবর্তী আদেশের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
রিপোর্টারের নাম 

























