ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ দিনের ছুটি ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত নতুন শিক্ষাবর্ষের পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের সকল সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মোট ৭০ দিনের ছুটি ভোগ করবে। এই দীর্ঘ ছুটির তালিকায় রমজান, ঈদ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব এবং জাতীয় দিবস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, ছুটির দিন গণনার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি, অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার বাদ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি অনুমোদন করা হয়। উপসচিব মো. রাহাত মান্না কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (১৪৩২–১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) মাদরাসাগুলোতে মোট ৭০ দিনের ছুটি থাকবে, যার মধ্যে ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস, গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অবকাশ অন্তর্ভুক্ত। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটির তারিখগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) শব-ই-মিরাজ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) শব-ই-বরাতের ছুটি পালিত হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি থাকবে, যা পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শব-ই-কদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।

১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১ মে (শুক্রবার) মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি থাকবে। ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাই মাসে হিজরি নববর্ষ (১৬ জুন), আশুরা (২৬ জুন), জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস (৫ আগস্ট) এবং আখেরি চাহার সোম্বা (১২ আগস্ট) ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে ২৬ ও ২৭ আগস্ট দুই দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী (৪ সেপ্টেম্বর) এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (২৪ সেপ্টেম্বর) ছুটি থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে। মহান বিজয় দিবস, বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস, যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন এবং শীতকালীন অবকাশ মিলিয়ে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য তিন দিনের সংরক্ষিত ছুটি রাখা হয়েছে।

বিশেষভাবে, হাওড় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে, অর্থাৎ মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত, হাওড় এলাকার মাদরাসার প্রধানরা ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির সাথে সমন্বয় করে অতিরিক্ত ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন।

শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী পরীক্ষার সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দাখিল নির্বাচনি পরীক্ষা ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এবং বার্ষিক পরীক্ষা ও আলিম নির্বাচনি পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শনের কারণে মাদরাসা ছুটি দেওয়া যাবে না এবং সংবর্ধনার জন্য শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে ক্লাস বন্ধ থাকলেও দিবসের তাৎপর্য অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করতে হবে। সরকার ঘোষিত সকল সাধারণ ছুটি এই ৭০ দিনের ছুটির অন্তর্ভুক্ত। প্রয়োজনে ভর্তি বা অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মাদরাসা খোলা রাখা যেতে পারে। পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র ছাড়া অন্য মাদরাসাগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শুভ উদ্বোধন’ ব্যানার, পুড়িয়ে দিল স্বেচ্ছাসেবক দল

২০২৬ সালে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ দিনের ছুটি ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত নতুন শিক্ষাবর্ষের পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের সকল সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মোট ৭০ দিনের ছুটি ভোগ করবে। এই দীর্ঘ ছুটির তালিকায় রমজান, ঈদ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব এবং জাতীয় দিবস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, ছুটির দিন গণনার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি, অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার বাদ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি অনুমোদন করা হয়। উপসচিব মো. রাহাত মান্না কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (১৪৩২–১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) মাদরাসাগুলোতে মোট ৭০ দিনের ছুটি থাকবে, যার মধ্যে ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস, গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অবকাশ অন্তর্ভুক্ত। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটির তারিখগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) শব-ই-মিরাজ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) শব-ই-বরাতের ছুটি পালিত হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি থাকবে, যা পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শব-ই-কদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।

১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১ মে (শুক্রবার) মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি থাকবে। ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাই মাসে হিজরি নববর্ষ (১৬ জুন), আশুরা (২৬ জুন), জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস (৫ আগস্ট) এবং আখেরি চাহার সোম্বা (১২ আগস্ট) ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে ২৬ ও ২৭ আগস্ট দুই দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী (৪ সেপ্টেম্বর) এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (২৪ সেপ্টেম্বর) ছুটি থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে। মহান বিজয় দিবস, বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস, যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন এবং শীতকালীন অবকাশ মিলিয়ে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য তিন দিনের সংরক্ষিত ছুটি রাখা হয়েছে।

বিশেষভাবে, হাওড় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে, অর্থাৎ মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত, হাওড় এলাকার মাদরাসার প্রধানরা ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির সাথে সমন্বয় করে অতিরিক্ত ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন।

শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী পরীক্ষার সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দাখিল নির্বাচনি পরীক্ষা ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এবং বার্ষিক পরীক্ষা ও আলিম নির্বাচনি পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শনের কারণে মাদরাসা ছুটি দেওয়া যাবে না এবং সংবর্ধনার জন্য শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে ক্লাস বন্ধ থাকলেও দিবসের তাৎপর্য অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করতে হবে। সরকার ঘোষিত সকল সাধারণ ছুটি এই ৭০ দিনের ছুটির অন্তর্ভুক্ত। প্রয়োজনে ভর্তি বা অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মাদরাসা খোলা রাখা যেতে পারে। পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র ছাড়া অন্য মাদরাসাগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।