ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত: জকসুর তীব্র প্রতিবাদ, ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ার ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। জকসুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে আদালতকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি জানা থাকে, অন্যথায় বাদ দিন) জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তিটি জকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, আদালতের মাধ্যমে তা চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। জকসুর মতে, এটি শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের এবং ভোট দেওয়ার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

জকসু আরও জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন তাদের পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ জকসু। তাদের মতে, এর আগেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এমন হস্তক্ষেপ দেখা গেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অকার্যকর করে রাখা।

জকসু বিশ্বাস করে, ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী সময়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, শাকসু নির্বাচন স্থগিতের ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইতিমধ্যে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

জকসু স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শাকসু শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার পেশিশক্তি, রাজনৈতিক চাপ বা দলীয় স্বার্থের কাছে নিজেদের ভোটাধিকার বন্ধক রাখবে না। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের।

বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জকসু দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য শাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত: জকসুর তীব্র প্রতিবাদ, ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ার ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। জকসুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে আদালতকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি জানা থাকে, অন্যথায় বাদ দিন) জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তিটি জকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, আদালতের মাধ্যমে তা চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। জকসুর মতে, এটি শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের এবং ভোট দেওয়ার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

জকসু আরও জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন তাদের পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ জকসু। তাদের মতে, এর আগেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এমন হস্তক্ষেপ দেখা গেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অকার্যকর করে রাখা।

জকসু বিশ্বাস করে, ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী সময়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, শাকসু নির্বাচন স্থগিতের ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইতিমধ্যে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

জকসু স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শাকসু শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার পেশিশক্তি, রাজনৈতিক চাপ বা দলীয় স্বার্থের কাছে নিজেদের ভোটাধিকার বন্ধক রাখবে না। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের।

বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জকসু দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য শাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।