দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও হাইকোর্টের আদেশে তা চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দুইজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই স্থগিতাদেশ দেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। রাত একটার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পর দ্রুত নির্বাচনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করে অবরোধ তুলে নেন।
শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলেও চরম অস্থিরতা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং এরই মধ্যে ১৫ জন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে ৮ জন পদত্যাগ করেছেন। বিএনপিপন্থী প্রায় দেড়শ শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে পুনরায় ভোট গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে। একই ইস্যুতে ছাত্রদলও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক ডেকেছে এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপিল করেছে, যার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 














