ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জোট-বিজোটের রাজনীতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## রাজনীতিতে ভাঙাগড়া: জোট-বিজোটের অলিগলি

ঢাকা: ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই’ – ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন ডিসরাইলির এই বিখ্যাত উক্তিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেন এক প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে। দেশের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এই কথাটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যুগে যুগে নানা ঐতিহাসিক ও পর্যটকের বর্ণনায় বাংলাদেশকে এক অশান্ত ও জটিল দেশ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা রাজনীতির ভাঙাগড়াকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বিশেষত নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট-বিজোটের রাজনীতি এই ধারণাকে আরও সুদৃঢ় করে।

রাজনীতির এই চিরন্তন সত্যের প্রতিফলন দেখা গেল সম্প্রতি জামায়াত জোটের ভাঙনে। বাংলাদেশে জোট-বিজোটের রাজনীতির শেকড় বেশ গভীরে প্রোথিত। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের রাজনীতি থেকে এর যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আদর্শিক ও নির্বাচনী জোট গঠিত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জিয়াউর রহমানের সমর্থনে ‘জাতীয়তাবাদী ঐক্য ফ্রন্ট’ গঠিত হয়। এরশাদ আমলে নির্বাচনী জোট-বিজোটের নানা সমীকরণ লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯১ পরবর্তী সময়ে বিএনপিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটের রাজনীতি উত্তাপ ছড়ায়। ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ও তাদের চৌদ্দ দলীয় জোট সরকার গঠন করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরবর্তীকালে ২০ দলীয় জোট আন্দোলন মুখর থাকে। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনThe announcement of election dates has once again brought forth the dynamics of coalition politics.

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে, রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কার্যক্রম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় এবং তাদের কঠোর হতে বাধ্য করে। একই সময়ে, বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন সমীকরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অভাবিত বিজয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণের পাল্লা জামায়াতের দিকে হেলে পড়ে। জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রাধান্য এবং বিএনপির জন্য ‘খোলা মাঠে গোল দেওয়ার’ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এই দলের পক্ষ থেকে জোটের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে। তবুও, ডান, বাম ও ইসলামি ঘরানার ছোটখাটো দলগুলো বিএনপির ছাতার নিচে সমবেত হয়।

অন্যদিকে, ইসলামি রাজনৈতিক ঘরানার পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। জনগণের একাংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে ইসলামি শক্তির শাসন দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে, যা গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে প্রতীয়মান হয়। প্রধান ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামী এবং অপর ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতা চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ রেজাউল করিম এক্ষেত্রে প্রাথমিক নেতৃত্ব দেন। ইসলামের নামে ঐক্যের ধারণা সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন ও জটিল। ইসলামি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অবশেষে ‘একবাক্স’ নীতি বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করা হয়। এই ফর্মুলায় ইসলামপন্থি যত মত ও পথই থাকুক না কেন, ভোটের মাঠে একটিই বাক্স থাকবে। অর্থাৎ, জোট নয়, বরং ভোটের ময়দানে একক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রধান দুটি ইসলামি দলের নেতৃত্বে বিভাগীয় পর্যায়ে বড় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এসব দেখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নানা ধরনের সভা-সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ওই কার্যক্রমের মোকাবিলা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ইসলামি শক্তির এই ঐক্যবদ্ধতার কারণে বিএনপির প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ‘খোলা মাঠে গোল দেওয়ার’ আশায় যেসব বিএনপি প্রার্থী নিশ্চিন্ত ছিলেন, তারাও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। জনগণ অবাক হয়ে পর্যবেক্ষণ করল ১১ দলীয় জোটের ভাঙন। শেষ পর্যন্ত চরমোনাইয়ের পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট পরিত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।

এই ভাঙনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাছবিচার চলছে – কার দোষে তীরে এসে তরী ডুবল? আরও বিচার বিশ্লেষণ চলছে – কার লাভ-ক্ষতি কত হবে? একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগে দৃশ্যমানভাবে যে ঐক্যের সূচনা হয়েছিল, তার অবসানে ইসলামি ঘরানার ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হবে। গরিষ্ঠ অংশ বাস্তবতার কারণে জামায়াতের সঙ্গেই থাকবে। এর সঙ্গে ১০ দলীয় জোটের অবস্থান তাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দেবে। অপরদিকে, চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন এককভাবে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। তৃতীয় অংশ ইতোমধ্যেই বিএনপির সঙ্গে শামিল হয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব না থাকার ফলে তাদের শক্তি-সামর্থ্য হিসাব করা যায়নি। তবে বিগত ১৭ বছরে তাদের জনক্ষয় ঘটেনি, কেউ জেলে যায়নি, নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেনি। তাদের জনশক্তি যেমন ছিল, তার চেয়ে আরও বেড়েছে। দেশের অনেক জায়গায় নির্বাচনি পকেট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের অনুপস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে। এখন জোট ছেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের সবটুকু অর্জন ভেস্তে যেতে বসেছে। অথচ এই জোটকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অবদান কম নয়।

ইসলামী আন্দোলন গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পুরোনো পল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিযোগ-অনুযোগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পীর সাহেব রেজাউল করিম এবং দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব ফয়জুল করিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। গাজী আতাউর বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য না থাকার কারণ হচ্ছে, আমরা নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়েছি।’ তাদের আরও অভিযোগ, জামায়াতের পক্ষ থেকে তারা উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, জামায়াত আমির বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’ ইসলামী আন্দোলনের সম্মতি ছাড়া এনসিপিকে জোটে নেওয়া নিয়েও রয়েছে পীর সাহেবের গুরুতর আপত্তি। দৃশ্যমান অভিযোগ যা-ই হোক না কেন, মূলত আসন বণ্টনের হিসাব-নিকাশ কেন্দ্র করে এই বিভেদ-বিভাজন ঘটেছে। শুরুতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সমান সমান মর্যাদা ও ক্ষমতা দাবি করে আসছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ৬০ থেকে ৮০টি আসন। অপরদিকে জামায়াত তাদের ৩০-৩৫টি আসনের মধ্যে সীমিত করতে চেয়েছে। অবশেষে জামায়াত তাদের ৪৭টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা মেনে নেয়নি। বেশি সিট চাওয়ায় জামায়াত নেতৃত্বে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট দেখা দেয়। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তথা বিভিন্ন সংসদীয় আসনের অবস্থান সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগে তারা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে নানা ধরনের কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত গুজবের কথা শোনা যায়। গণমাধ্যমে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এটি প্রতিবেশীর খেলা। আবার কেউ বলছেন, প্রধান দল অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে কোনো রকম গোপন চুক্তির কারণে তারা হয়তো এটা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টন বা অন্যরকম সমঝোতার কোনো সুযোগ বাকি নেই। তবে নির্বাচন-পরবর্তীকালে তাদের সরকারে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা সঠিক হবে না। উল্লেখ্য, আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে জাতীয় সরকারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয় ঐক্যের পাটাতন নির্মাতা বলেও অভিহিত করেছেন। এই দুটো মন্তব্যেও ইসলামী আন্দোলনের গুরুতর আপত্তি। তারা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে হয়তো তাদের গোপন যোগসাজশ রয়েছে।

বিএনপি সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের এ রকম নেতিবাচক ধারণা সবসময়ই ছিল। তারা ইসলামি রাজনীতির সুযোগ দেওয়ার ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে একইভাবে মূল্যায়ন করেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে সমান্তরাল ভেবে কঠিন কঠিন কথাবার্তা বলেন। তাদের নেতা ও নেতৃত্বের বক্তৃতা-বিবৃতি শুনলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ বছরের শুরুতে বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের একটি সমঝোতার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন প্রধান মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে ১০ দফা যৌথ সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়। এতে উভয় নেতা আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম টেকসই গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করেন। কিন্তু সেই যৌথ ঘোষণা আর অগ্রসর হয়নি। ইসলামী আন্দোলন থেকে অভিযোগ করা হয় যে, রাজনৈতিকভাবে জিয়াউর রহমানের ইসলামি আদর্শ থেকে বিএনপি সরে গেলে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী ঘটনাবলিতে সেই দূরত্ব স্থায়ী রূপ লাভ করে। বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের সম্পর্কের সূচনা ঘটে।

একজন সাধারণ মানুষও বোঝে, ঐক্যেই শক্তি, ভাঙনে সর্বনাশ। এই ভাঙনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা দলকে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। ১১ দলীয় জোটের ভাঙনে কতটা সর্বনাশ হয়েছে, কতটা সর্বনাশ হবে – ভবিষ্যৎই তা নির্ধারণ করবে। তবে ইমেজ বা রূপকল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এ বিষয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য চেয়ারও খালি রেখেছি, আসনও ফাঁকা রেখেছি। এরপর কী করণীয় ছিল আমাদের?’ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী প্রতিপক্ষ ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার জন্য প্রাণান্ত প্রয়াস চালায়। তারা কোনো কঠিন ও অপ্রীতিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকে। জামায়াত জোট এখনো বলছে, ‘দুয়ার খোলা রয়েছে।’ উভয় দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবকরা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের সব চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াতে ইসলামী। আবারও যদি ভাঙা হাট জোড়া লাগে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ফিরে আসে সমঝোতায় – তাহলে প্রমাণিত হবে, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

জোট-বিজোটের রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

## রাজনীতিতে ভাঙাগড়া: জোট-বিজোটের অলিগলি

ঢাকা: ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই’ – ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন ডিসরাইলির এই বিখ্যাত উক্তিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেন এক প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে। দেশের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এই কথাটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যুগে যুগে নানা ঐতিহাসিক ও পর্যটকের বর্ণনায় বাংলাদেশকে এক অশান্ত ও জটিল দেশ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা রাজনীতির ভাঙাগড়াকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বিশেষত নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট-বিজোটের রাজনীতি এই ধারণাকে আরও সুদৃঢ় করে।

রাজনীতির এই চিরন্তন সত্যের প্রতিফলন দেখা গেল সম্প্রতি জামায়াত জোটের ভাঙনে। বাংলাদেশে জোট-বিজোটের রাজনীতির শেকড় বেশ গভীরে প্রোথিত। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের রাজনীতি থেকে এর যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আদর্শিক ও নির্বাচনী জোট গঠিত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জিয়াউর রহমানের সমর্থনে ‘জাতীয়তাবাদী ঐক্য ফ্রন্ট’ গঠিত হয়। এরশাদ আমলে নির্বাচনী জোট-বিজোটের নানা সমীকরণ লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯১ পরবর্তী সময়ে বিএনপিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটের রাজনীতি উত্তাপ ছড়ায়। ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ও তাদের চৌদ্দ দলীয় জোট সরকার গঠন করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরবর্তীকালে ২০ দলীয় জোট আন্দোলন মুখর থাকে। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনThe announcement of election dates has once again brought forth the dynamics of coalition politics.

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে, রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কার্যক্রম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় এবং তাদের কঠোর হতে বাধ্য করে। একই সময়ে, বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন সমীকরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অভাবিত বিজয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণের পাল্লা জামায়াতের দিকে হেলে পড়ে। জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রাধান্য এবং বিএনপির জন্য ‘খোলা মাঠে গোল দেওয়ার’ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এই দলের পক্ষ থেকে জোটের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে। তবুও, ডান, বাম ও ইসলামি ঘরানার ছোটখাটো দলগুলো বিএনপির ছাতার নিচে সমবেত হয়।

অন্যদিকে, ইসলামি রাজনৈতিক ঘরানার পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। জনগণের একাংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে ইসলামি শক্তির শাসন দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে, যা গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে প্রতীয়মান হয়। প্রধান ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামী এবং অপর ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতা চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ রেজাউল করিম এক্ষেত্রে প্রাথমিক নেতৃত্ব দেন। ইসলামের নামে ঐক্যের ধারণা সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন ও জটিল। ইসলামি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অবশেষে ‘একবাক্স’ নীতি বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করা হয়। এই ফর্মুলায় ইসলামপন্থি যত মত ও পথই থাকুক না কেন, ভোটের মাঠে একটিই বাক্স থাকবে। অর্থাৎ, জোট নয়, বরং ভোটের ময়দানে একক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রধান দুটি ইসলামি দলের নেতৃত্বে বিভাগীয় পর্যায়ে বড় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এসব দেখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নানা ধরনের সভা-সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ওই কার্যক্রমের মোকাবিলা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ইসলামি শক্তির এই ঐক্যবদ্ধতার কারণে বিএনপির প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ‘খোলা মাঠে গোল দেওয়ার’ আশায় যেসব বিএনপি প্রার্থী নিশ্চিন্ত ছিলেন, তারাও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। জনগণ অবাক হয়ে পর্যবেক্ষণ করল ১১ দলীয় জোটের ভাঙন। শেষ পর্যন্ত চরমোনাইয়ের পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট পরিত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।

এই ভাঙনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাছবিচার চলছে – কার দোষে তীরে এসে তরী ডুবল? আরও বিচার বিশ্লেষণ চলছে – কার লাভ-ক্ষতি কত হবে? একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগে দৃশ্যমানভাবে যে ঐক্যের সূচনা হয়েছিল, তার অবসানে ইসলামি ঘরানার ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হবে। গরিষ্ঠ অংশ বাস্তবতার কারণে জামায়াতের সঙ্গেই থাকবে। এর সঙ্গে ১০ দলীয় জোটের অবস্থান তাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দেবে। অপরদিকে, চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন এককভাবে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। তৃতীয় অংশ ইতোমধ্যেই বিএনপির সঙ্গে শামিল হয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব না থাকার ফলে তাদের শক্তি-সামর্থ্য হিসাব করা যায়নি। তবে বিগত ১৭ বছরে তাদের জনক্ষয় ঘটেনি, কেউ জেলে যায়নি, নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেনি। তাদের জনশক্তি যেমন ছিল, তার চেয়ে আরও বেড়েছে। দেশের অনেক জায়গায় নির্বাচনি পকেট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের অনুপস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে। এখন জোট ছেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের সবটুকু অর্জন ভেস্তে যেতে বসেছে। অথচ এই জোটকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অবদান কম নয়।

ইসলামী আন্দোলন গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পুরোনো পল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিযোগ-অনুযোগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পীর সাহেব রেজাউল করিম এবং দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব ফয়জুল করিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। গাজী আতাউর বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য না থাকার কারণ হচ্ছে, আমরা নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়েছি।’ তাদের আরও অভিযোগ, জামায়াতের পক্ষ থেকে তারা উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, জামায়াত আমির বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’ ইসলামী আন্দোলনের সম্মতি ছাড়া এনসিপিকে জোটে নেওয়া নিয়েও রয়েছে পীর সাহেবের গুরুতর আপত্তি। দৃশ্যমান অভিযোগ যা-ই হোক না কেন, মূলত আসন বণ্টনের হিসাব-নিকাশ কেন্দ্র করে এই বিভেদ-বিভাজন ঘটেছে। শুরুতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সমান সমান মর্যাদা ও ক্ষমতা দাবি করে আসছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ৬০ থেকে ৮০টি আসন। অপরদিকে জামায়াত তাদের ৩০-৩৫টি আসনের মধ্যে সীমিত করতে চেয়েছে। অবশেষে জামায়াত তাদের ৪৭টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা মেনে নেয়নি। বেশি সিট চাওয়ায় জামায়াত নেতৃত্বে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট দেখা দেয়। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তথা বিভিন্ন সংসদীয় আসনের অবস্থান সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগে তারা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে নানা ধরনের কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত গুজবের কথা শোনা যায়। গণমাধ্যমে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এটি প্রতিবেশীর খেলা। আবার কেউ বলছেন, প্রধান দল অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে কোনো রকম গোপন চুক্তির কারণে তারা হয়তো এটা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টন বা অন্যরকম সমঝোতার কোনো সুযোগ বাকি নেই। তবে নির্বাচন-পরবর্তীকালে তাদের সরকারে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা সঠিক হবে না। উল্লেখ্য, আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে জাতীয় সরকারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয় ঐক্যের পাটাতন নির্মাতা বলেও অভিহিত করেছেন। এই দুটো মন্তব্যেও ইসলামী আন্দোলনের গুরুতর আপত্তি। তারা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে হয়তো তাদের গোপন যোগসাজশ রয়েছে।

বিএনপি সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের এ রকম নেতিবাচক ধারণা সবসময়ই ছিল। তারা ইসলামি রাজনীতির সুযোগ দেওয়ার ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে একইভাবে মূল্যায়ন করেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে সমান্তরাল ভেবে কঠিন কঠিন কথাবার্তা বলেন। তাদের নেতা ও নেতৃত্বের বক্তৃতা-বিবৃতি শুনলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ বছরের শুরুতে বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের একটি সমঝোতার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন প্রধান মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে ১০ দফা যৌথ সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়। এতে উভয় নেতা আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম টেকসই গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করেন। কিন্তু সেই যৌথ ঘোষণা আর অগ্রসর হয়নি। ইসলামী আন্দোলন থেকে অভিযোগ করা হয় যে, রাজনৈতিকভাবে জিয়াউর রহমানের ইসলামি আদর্শ থেকে বিএনপি সরে গেলে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী ঘটনাবলিতে সেই দূরত্ব স্থায়ী রূপ লাভ করে। বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের সম্পর্কের সূচনা ঘটে।

একজন সাধারণ মানুষও বোঝে, ঐক্যেই শক্তি, ভাঙনে সর্বনাশ। এই ভাঙনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা দলকে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। ১১ দলীয় জোটের ভাঙনে কতটা সর্বনাশ হয়েছে, কতটা সর্বনাশ হবে – ভবিষ্যৎই তা নির্ধারণ করবে। তবে ইমেজ বা রূপকল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এ বিষয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য চেয়ারও খালি রেখেছি, আসনও ফাঁকা রেখেছি। এরপর কী করণীয় ছিল আমাদের?’ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী প্রতিপক্ষ ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার জন্য প্রাণান্ত প্রয়াস চালায়। তারা কোনো কঠিন ও অপ্রীতিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকে। জামায়াত জোট এখনো বলছে, ‘দুয়ার খোলা রয়েছে।’ উভয় দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবকরা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের সব চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াতে ইসলামী। আবারও যদি ভাঙা হাট জোড়া লাগে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ফিরে আসে সমঝোতায় – তাহলে প্রমাণিত হবে, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’