ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বন্দিদের ভোটাধিকার: ৮৪ হাজার বন্দির মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ৬ হাজার

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও এতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা মোট ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৯৩ শতাংশ বন্দিই এই ঐতিহাসিক সুযোগের বাইরে থাকছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতা এবং জামিন পেয়ে মুক্ত হওয়ার আশার কারণেই নিবন্ধনের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কারা-সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত বন্দিদের মধ্যে ৫ হাজার ৯২০ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ৩২০ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যারা কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তারা জামিন পেলেও ভোট দিতে হলে কারাগারে নির্ধারিত বুথেই আসতে হবে। ভোট শেষে তারা পুনরায় নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।

নিবন্ধনে অনাগ্রহের মূল কারণসমূহ

কারা কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বন্দিদের নিবন্ধিত না হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • মুক্তির প্রত্যাশা: অনেক বন্দি মনে করছেন তারা নির্বাচনের আগেই জামিন পেয়ে যাবেন, তাই তারা কারাগারের ঠিকানায় নিবন্ধন করতে আগ্রহী হননি।
  • এনআইডি জটিলতা: পুরনো বন্দিদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বা তাদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত নেই। ২০১৯ সালের আগে যারা কারাগারে গেছেন, তাদের এনআইডি সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: বর্তমানে কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, বন্দিদের ভোট দেওয়ার জন্য কোনো জোর করা হবে না, তবে আগ্রহীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ভোট দেওয়ার পদ্ধতিগুলো হলো:

  • পোস্টাল ব্যালট: বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। তাদের কাছে প্রার্থী ও প্রতীক সম্বলিত বুকলেট সরবরাহ করা হবে।
  • গোপন কক্ষ: কারাগারের ভেতরে গোপন বুথ বা কক্ষ নিশ্চিত করা হবে যেখানে তারা ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে খামবন্দি করবেন।
  • ডাক বিভাগের ভূমিকা: ভোট শেষে খামগুলো সংগ্রহ করে দ্রুত ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে।

বিভাগভিত্তিক নিবন্ধিত বন্দি ভোটারের সংখ্যা

বিভাগনিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা
ঢাকা (বিভাগ ১ ও ২)২,৩৬৯ জন
চট্টগ্রাম১,১০১ জন
রাজশাহী৬৯৪ জন
খুলনা৬৯০ জন
সিলেট৫১০ জন
রংপুর৩০৫ জন
বরিশাল২৩৪ জন
ময়মনসিংহ১৫৮ জন

সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (৯৯০ জন), যেখানে বন্দি সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজার ৫৭৩ জন বন্দির মধ্যে মাত্র ৩৭৮ জন নিবন্ধন করেছেন। কারা কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হলেও ভবিষ্যতে এনআইডি সমস্যা সমাধান হলে কারাগারে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার আরও বাড়বে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিমানবন্দরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আটক: হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি

বন্দিদের ভোটাধিকার: ৮৪ হাজার বন্দির মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ৬ হাজার

আপডেট সময় : ০১:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও এতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা মোট ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৯৩ শতাংশ বন্দিই এই ঐতিহাসিক সুযোগের বাইরে থাকছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতা এবং জামিন পেয়ে মুক্ত হওয়ার আশার কারণেই নিবন্ধনের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কারা-সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত বন্দিদের মধ্যে ৫ হাজার ৯২০ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ৩২০ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যারা কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তারা জামিন পেলেও ভোট দিতে হলে কারাগারে নির্ধারিত বুথেই আসতে হবে। ভোট শেষে তারা পুনরায় নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।

নিবন্ধনে অনাগ্রহের মূল কারণসমূহ

কারা কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বন্দিদের নিবন্ধিত না হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • মুক্তির প্রত্যাশা: অনেক বন্দি মনে করছেন তারা নির্বাচনের আগেই জামিন পেয়ে যাবেন, তাই তারা কারাগারের ঠিকানায় নিবন্ধন করতে আগ্রহী হননি।
  • এনআইডি জটিলতা: পুরনো বন্দিদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বা তাদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত নেই। ২০১৯ সালের আগে যারা কারাগারে গেছেন, তাদের এনআইডি সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: বর্তমানে কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, বন্দিদের ভোট দেওয়ার জন্য কোনো জোর করা হবে না, তবে আগ্রহীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ভোট দেওয়ার পদ্ধতিগুলো হলো:

  • পোস্টাল ব্যালট: বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। তাদের কাছে প্রার্থী ও প্রতীক সম্বলিত বুকলেট সরবরাহ করা হবে।
  • গোপন কক্ষ: কারাগারের ভেতরে গোপন বুথ বা কক্ষ নিশ্চিত করা হবে যেখানে তারা ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে খামবন্দি করবেন।
  • ডাক বিভাগের ভূমিকা: ভোট শেষে খামগুলো সংগ্রহ করে দ্রুত ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে।

বিভাগভিত্তিক নিবন্ধিত বন্দি ভোটারের সংখ্যা

বিভাগনিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা
ঢাকা (বিভাগ ১ ও ২)২,৩৬৯ জন
চট্টগ্রাম১,১০১ জন
রাজশাহী৬৯৪ জন
খুলনা৬৯০ জন
সিলেট৫১০ জন
রংপুর৩০৫ জন
বরিশাল২৩৪ জন
ময়মনসিংহ১৫৮ জন

সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (৯৯০ জন), যেখানে বন্দি সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজার ৫৭৩ জন বন্দির মধ্যে মাত্র ৩৭৮ জন নিবন্ধন করেছেন। কারা কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হলেও ভবিষ্যতে এনআইডি সমস্যা সমাধান হলে কারাগারে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার আরও বাড়বে।