ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব ও বিশ্বরাজনীতির নতুন সম্ভাবনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

## ইন্দো-প্যাসিফিক: বিশ্ব রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব ও সম্ভাবনার হাতছানি

ঢাকা: ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তৃত জলরাশি এবং এর তীরবর্তী দেশগুলো নিয়ে গঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে উদীয়মান শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান এবং প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি আমেরিকার সঙ্গে এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বজুড়ে নতুন মেরুকরণ ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবকে ছাড়িয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের মূল রণক্ষেত্র। এই অঞ্চলের বিশাল জলরাশি কেবল সমুদ্র বাণিজ্য ও অর্থনীতিরই কেন্দ্র নয়, বরং এটি তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের এক অফুরন্ত ভাণ্ডারও বটে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা, বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, বৈশ্বিক জ্বালানি সম্পদের একটি বড় অংশ এবং সামুদ্রিক সীমানার প্রায় ৬৫ শতাংশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিকভাবেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; বৈশ্বিক অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশ এবং জিডিপির ৬০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান মাথাব্যথার কারণ হলো চীনের অভাবনীয় সামরিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। এক সময়ের শিল্পোন্নত দেশ থেকে চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই উত্থানকে ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে একটি উদীয়মান শক্তি প্রতিষ্ঠিত শক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে এই অঞ্চলে তাদের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা, তবে এর আড়ালে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে প্রতিহত করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও রয়েছে। তারা মনে করে, এই অঞ্চলে চীনের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হলে তা আমেরিকার বাণিজ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাবকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

অন্যদিকে, চীন এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনকে সামরিকভাবে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। চীন দাবি করে যে তারা কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। তবে, চীন ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে, যেমন ভারত, তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সীমান্ত ও অন্যান্য দ্বন্দ্ব এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে।

এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালে গঠিত হওয়া ‘কোয়াড’ জোট, যার সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া, সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর চীনের আধিপত্য বিস্তার রোধ করা।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান এই অঞ্চলের কেন্দ্রে এবং এর রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি, যা তেল, গ্যাস, জীববৈচিত্র্য ও নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনাময় উৎস। বাংলাদেশ এই অঞ্চলকে একটি উন্মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইউরোপসহ সকল দেশ অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক’ প্রকাশ করেছে, যা শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উন্মুক্ত সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর জোর দেয়।

একুশ শতকের বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও এই অঞ্চলে নিহিত। সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে থাকা খনিজ সম্পদ, তেল, গ্যাস এবং জীববৈচিত্র্য এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে ঘোষিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমেও এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে ১৫৫টি দেশকে সংযুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও, দুই পরাশক্তি আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তা-ই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতি ও ভূরাজনীতির গতিপথ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব ও বিশ্বরাজনীতির নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

## ইন্দো-প্যাসিফিক: বিশ্ব রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব ও সম্ভাবনার হাতছানি

ঢাকা: ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তৃত জলরাশি এবং এর তীরবর্তী দেশগুলো নিয়ে গঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে উদীয়মান শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান এবং প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি আমেরিকার সঙ্গে এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বজুড়ে নতুন মেরুকরণ ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবকে ছাড়িয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের মূল রণক্ষেত্র। এই অঞ্চলের বিশাল জলরাশি কেবল সমুদ্র বাণিজ্য ও অর্থনীতিরই কেন্দ্র নয়, বরং এটি তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের এক অফুরন্ত ভাণ্ডারও বটে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা, বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, বৈশ্বিক জ্বালানি সম্পদের একটি বড় অংশ এবং সামুদ্রিক সীমানার প্রায় ৬৫ শতাংশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিকভাবেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; বৈশ্বিক অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশ এবং জিডিপির ৬০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান মাথাব্যথার কারণ হলো চীনের অভাবনীয় সামরিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। এক সময়ের শিল্পোন্নত দেশ থেকে চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই উত্থানকে ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে একটি উদীয়মান শক্তি প্রতিষ্ঠিত শক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে এই অঞ্চলে তাদের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা, তবে এর আড়ালে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে প্রতিহত করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও রয়েছে। তারা মনে করে, এই অঞ্চলে চীনের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হলে তা আমেরিকার বাণিজ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাবকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

অন্যদিকে, চীন এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনকে সামরিকভাবে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। চীন দাবি করে যে তারা কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। তবে, চীন ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে, যেমন ভারত, তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সীমান্ত ও অন্যান্য দ্বন্দ্ব এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে।

এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালে গঠিত হওয়া ‘কোয়াড’ জোট, যার সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া, সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর চীনের আধিপত্য বিস্তার রোধ করা।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান এই অঞ্চলের কেন্দ্রে এবং এর রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি, যা তেল, গ্যাস, জীববৈচিত্র্য ও নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনাময় উৎস। বাংলাদেশ এই অঞ্চলকে একটি উন্মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইউরোপসহ সকল দেশ অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক’ প্রকাশ করেছে, যা শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উন্মুক্ত সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর জোর দেয়।

একুশ শতকের বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও এই অঞ্চলে নিহিত। সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে থাকা খনিজ সম্পদ, তেল, গ্যাস এবং জীববৈচিত্র্য এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে ঘোষিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমেও এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে ১৫৫টি দেশকে সংযুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও, দুই পরাশক্তি আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তা-ই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতি ও ভূরাজনীতির গতিপথ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।