ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সার্ক গঠন জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

## সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা জিয়াউর রহমান: দূরদৃষ্টি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি

ঢাকা: আজ ১৯ জানুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং একসময়ের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং মাতা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী ও রেডিওতে নজরুল সংগীতের শিল্পী। জিয়াউর রহমানের ডাকনাম ছিল কমল। তিনি ছিলেন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।

শৈশবের একটি বড় অংশ তাঁর পরিবারের সাথে কলকাতায় কেটেছে। বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতার আবহের সঙ্গে পরিচিতি তাঁর। তাঁর বড় ভাই রেজাউর রহমান, যিনি বয়সে তাঁর থেকে দু’বছরের বড় ছিলেন, স্মৃতিচারণ করে বলেন, “কমল শৈশব থেকেই ছিল অত্যন্ত শান্ত, লাজুক, অন্তর্মুখী এবং নিয়মানুবর্তী। সে ছিল স্বল্প আহারী। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম। গান্ধী-জিন্নাহ-নেহরুর মতো রাজনীতির বড় বড় নেতারা কলকাতায় এলে কমল তাদের বক্তব্য শুনতে যেত।” ১৯৪০ সালে জাপানি বিমান হামলার আশঙ্কায় পরিবারসহ বগুড়ার গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। গ্রামীণ পরিবেশ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ক্ষেতে কৃষকের কাজ, বন্যা ও মাছ ধরার আনন্দ—এই সবকিছুই তাঁর পরবর্তী জীবনে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার ভিত্তি তৈরি করেছিল। রেজাউর রহমান আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কমলকে দেখেছি দেশমাতৃকার প্রতি গভীর টান। দেশকে নিয়ে কারো তুচ্ছতাচ্ছিল্য সে সহ্য করতে পারত না।”

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদান এবং পরবর্তীতে দেশ পরিচালনায় তিনি তাঁর দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কাছে দেশের স্বার্থই ছিল সর্বোচ্চ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, তদবির ও বিলাসিতাকে তিনি অপছন্দ করতেন। তাঁর পরিবারও রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো কথা না বলে তাঁকে দেশসেবার সুযোগ করে দিত।

একাত্তরের রণাঙ্গনে তিনি ছিলেন ‘জেড ফোর্সের’ অধিনায়ক। সেই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দিশিবিরে ছিলেন। একাত্তরের ২১ আগস্ট রণাঙ্গন থেকে পাকিস্তানি মেজর জেনারেল জামশেদকে লেখা চিঠিতে তিনি তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়ার সসম্মানে থাকার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি তাঁর স্ত্রীকে রাজনীতির বাইরে একজন আদর্শ গৃহবধূ হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলেন এবং খালেদা জিয়াও তাঁর সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সংসার জীবনে মনোনিবেশ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান চাইতেন তাঁর ছেলেরা সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক হয়ে গড়ে উঠুক। তিনি নিজের পুরোনো প্যান্ট বা শার্ট কেটে ছোট করে ছেলেদের পরতে দিতেন এবং মাসিক বেতনের টাকা স্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিতেন সংসার চালানোর জন্য।

তারেক রহমানের চোখে জিয়াউর রহমান

বিএনপি বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি তাঁর পিতাকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এবং দেশের জন্য কাজ করতে গিয়েই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান দেশের প্রয়োজনে এবং বিরাজমান পরিস্থিতির দাবিতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তারেক রহমান তাঁর পিতাকে একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক, স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জিয়াউর রহমান কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি করেননি, বরং তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়েছেন, তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রদূত এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে বিবেচনা করেন।

সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি জিয়াউর রহমান

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, যা আজ সার্ক (SAARC) নামে পরিচিত, তার মূল ধারণাটি ছিল জিয়াউর রহমানের। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই দূরদর্শী কূটনৈতিক চিন্তার ফসলই হলো সার্ক। এজন্য তিনি সার্কের মূল ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ বা ‘স্থপতি’ হিসেবে পরিচিত।

আশিয়ান (ASEAN) জোটের আদলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি জোট গড়ার প্রয়োজনীয়তা জিয়াউর রহমান প্রথম অনুভব করেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে তিনি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল সফর করে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। ১৯৮০ সালের ২ মে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে একটি ঐতিহাসিক চিঠি পাঠান। এই চিঠিতে তিনি এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করেন। তাঁর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হকও এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা করেন। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই এবং নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রমের সঙ্গে সার্ক নিয়ে তাঁর নিবিড় আলোচনা জোট গঠনের পথ প্রশস্ত করে।

প্রাথমিকভাবে ভারত ও পাকিস্তান কিছুটা সংশয়ে ছিল। বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সার্ক গঠনে সন্দিহান ছিলেন। তিনি এটাকে ভারতের উপর ছোট দেশগুলোর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে মনে করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাঁর দৃঢ় কূটনীতি ও বোঝানোর মাধ্যমে তাঁদের রাজি করাতে সক্ষম হন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সামগ্রিক স্বার্থেই সার্ক গঠিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সার্ক গঠনের উদ্যোগে সবাই সম্মত হন। সার্কের কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারিত হয় কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা। জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শাহাদত বরণ করার কারণে সার্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা দেখে যেতে পারেননি। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সার্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

আজ যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, তখন তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের কথা বারবার মনে পড়ছে। সার্কের বয়স আজ ৪০ বছর হয়েছে। ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ঢাকা তিনবার এই সম্মেলনের আয়োজক হয়েছে। তবে ২০১৪ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পর আর কোনো নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে সার্কের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সার্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশ্বমঞ্চে এর গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

সার্কের স্থবিরতার প্রধান কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা। ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা এখনো অমীমাংসিত। ভারত বর্তমানে সার্কের চেয়ে বিমসটেক বা বিবিআইএন-এর মতো জোটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান নেই। অথচ দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম সংযুক্ত অঞ্চলগুলোর একটি। যৌথভাবে কাজ করলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হতো। সাপটা (SAFTA) পুরোপুরি কার্যকর হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা পাওয়া যেত, যা নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সাহায্য করত। রেল, সড়ক ও নৌপথে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটত। নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ এবং ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাস বা গ্রিড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সংকট দূর হতো।

সার্ক নেতাদের মূল্যায়নে জিয়া

সার্ক গঠনের ব্যাপারে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবকে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর সম্মতির ভিত্তিতেই ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কের যাত্রা শুরু হয়। সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে চার্টার স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারত সার্ক গঠনের চূড়ান্ত সম্মতি দেয়।

১৯৮৫ সালে সার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সার্ককে ‘একটি বিশ্বাসের কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘আঞ্চলিক পরিচয়’ তৈরি করবে। তিনি জিয়াউর রহমানকে একজন ‘দূরদর্শী’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।

শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস আর জয়বর্ধনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমান সার্কের প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা’ বা মূল স্থপতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার যে বীজ জিয়াউর রহমান বপন করেছিলেন, এই শীর্ষ সম্মেলন তারই ফসল। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যখন প্রথম আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালই সবার আগে তাঁকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন।

সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের সার্ক সনদ (‘ঢাকা ডিক্লারেশন’) জিয়াউর রহমান সূচিত প্রক্রিয়াকে ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করে। এতে বলা হয়, জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও অগ্রগতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার যে ধারণা দিয়ে গেছেন, সেটাই সার্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক সার্কের মতো সংস্থা গঠনের জন্য জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে ‘দূরদর্শী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর এই উদ্যোগ একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে সাহায্য করেছিল।

১৯৯৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হন। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সার্ক নেতারা জিয়াউর রহমানকে এই আঞ্চলিক জোটের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ এবং ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তাঁদের বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও উন্নয়নের জন্য জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তার প্রশংসা করেন। এই অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০০৪ সালের সার্ক সম্মেলনে জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর ‘সার্ক অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৩তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো সার্ক চেয়ারপারসন হন। এই সম্মেলনে সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ জিয়াউর রহমানকে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁকে মরণোত্তর প্রথম সার্ক পদক প্রদান করেন। এই পুরস্কার গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান। এই শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা সার্কের ধারণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। প্রথম সার্ক পুরস্কারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত যথাযথ হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

সার্ক গঠন জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

## সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা জিয়াউর রহমান: দূরদৃষ্টি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি

ঢাকা: আজ ১৯ জানুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং একসময়ের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং মাতা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী ও রেডিওতে নজরুল সংগীতের শিল্পী। জিয়াউর রহমানের ডাকনাম ছিল কমল। তিনি ছিলেন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।

শৈশবের একটি বড় অংশ তাঁর পরিবারের সাথে কলকাতায় কেটেছে। বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতার আবহের সঙ্গে পরিচিতি তাঁর। তাঁর বড় ভাই রেজাউর রহমান, যিনি বয়সে তাঁর থেকে দু’বছরের বড় ছিলেন, স্মৃতিচারণ করে বলেন, “কমল শৈশব থেকেই ছিল অত্যন্ত শান্ত, লাজুক, অন্তর্মুখী এবং নিয়মানুবর্তী। সে ছিল স্বল্প আহারী। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম। গান্ধী-জিন্নাহ-নেহরুর মতো রাজনীতির বড় বড় নেতারা কলকাতায় এলে কমল তাদের বক্তব্য শুনতে যেত।” ১৯৪০ সালে জাপানি বিমান হামলার আশঙ্কায় পরিবারসহ বগুড়ার গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। গ্রামীণ পরিবেশ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ক্ষেতে কৃষকের কাজ, বন্যা ও মাছ ধরার আনন্দ—এই সবকিছুই তাঁর পরবর্তী জীবনে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার ভিত্তি তৈরি করেছিল। রেজাউর রহমান আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কমলকে দেখেছি দেশমাতৃকার প্রতি গভীর টান। দেশকে নিয়ে কারো তুচ্ছতাচ্ছিল্য সে সহ্য করতে পারত না।”

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদান এবং পরবর্তীতে দেশ পরিচালনায় তিনি তাঁর দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কাছে দেশের স্বার্থই ছিল সর্বোচ্চ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, তদবির ও বিলাসিতাকে তিনি অপছন্দ করতেন। তাঁর পরিবারও রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো কথা না বলে তাঁকে দেশসেবার সুযোগ করে দিত।

একাত্তরের রণাঙ্গনে তিনি ছিলেন ‘জেড ফোর্সের’ অধিনায়ক। সেই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দিশিবিরে ছিলেন। একাত্তরের ২১ আগস্ট রণাঙ্গন থেকে পাকিস্তানি মেজর জেনারেল জামশেদকে লেখা চিঠিতে তিনি তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়ার সসম্মানে থাকার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি তাঁর স্ত্রীকে রাজনীতির বাইরে একজন আদর্শ গৃহবধূ হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলেন এবং খালেদা জিয়াও তাঁর সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সংসার জীবনে মনোনিবেশ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান চাইতেন তাঁর ছেলেরা সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক হয়ে গড়ে উঠুক। তিনি নিজের পুরোনো প্যান্ট বা শার্ট কেটে ছোট করে ছেলেদের পরতে দিতেন এবং মাসিক বেতনের টাকা স্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিতেন সংসার চালানোর জন্য।

তারেক রহমানের চোখে জিয়াউর রহমান

বিএনপি বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি তাঁর পিতাকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এবং দেশের জন্য কাজ করতে গিয়েই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান দেশের প্রয়োজনে এবং বিরাজমান পরিস্থিতির দাবিতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তারেক রহমান তাঁর পিতাকে একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক, স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জিয়াউর রহমান কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি করেননি, বরং তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়েছেন, তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রদূত এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে বিবেচনা করেন।

সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি জিয়াউর রহমান

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, যা আজ সার্ক (SAARC) নামে পরিচিত, তার মূল ধারণাটি ছিল জিয়াউর রহমানের। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই দূরদর্শী কূটনৈতিক চিন্তার ফসলই হলো সার্ক। এজন্য তিনি সার্কের মূল ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ বা ‘স্থপতি’ হিসেবে পরিচিত।

আশিয়ান (ASEAN) জোটের আদলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি জোট গড়ার প্রয়োজনীয়তা জিয়াউর রহমান প্রথম অনুভব করেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে তিনি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল সফর করে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। ১৯৮০ সালের ২ মে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে একটি ঐতিহাসিক চিঠি পাঠান। এই চিঠিতে তিনি এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করেন। তাঁর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হকও এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা করেন। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই এবং নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রমের সঙ্গে সার্ক নিয়ে তাঁর নিবিড় আলোচনা জোট গঠনের পথ প্রশস্ত করে।

প্রাথমিকভাবে ভারত ও পাকিস্তান কিছুটা সংশয়ে ছিল। বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সার্ক গঠনে সন্দিহান ছিলেন। তিনি এটাকে ভারতের উপর ছোট দেশগুলোর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে মনে করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাঁর দৃঢ় কূটনীতি ও বোঝানোর মাধ্যমে তাঁদের রাজি করাতে সক্ষম হন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সামগ্রিক স্বার্থেই সার্ক গঠিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সার্ক গঠনের উদ্যোগে সবাই সম্মত হন। সার্কের কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারিত হয় কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা। জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শাহাদত বরণ করার কারণে সার্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা দেখে যেতে পারেননি। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সার্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

আজ যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, তখন তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের কথা বারবার মনে পড়ছে। সার্কের বয়স আজ ৪০ বছর হয়েছে। ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ঢাকা তিনবার এই সম্মেলনের আয়োজক হয়েছে। তবে ২০১৪ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পর আর কোনো নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে সার্কের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সার্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশ্বমঞ্চে এর গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

সার্কের স্থবিরতার প্রধান কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা। ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা এখনো অমীমাংসিত। ভারত বর্তমানে সার্কের চেয়ে বিমসটেক বা বিবিআইএন-এর মতো জোটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান নেই। অথচ দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম সংযুক্ত অঞ্চলগুলোর একটি। যৌথভাবে কাজ করলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হতো। সাপটা (SAFTA) পুরোপুরি কার্যকর হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা পাওয়া যেত, যা নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সাহায্য করত। রেল, সড়ক ও নৌপথে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটত। নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ এবং ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাস বা গ্রিড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সংকট দূর হতো।

সার্ক নেতাদের মূল্যায়নে জিয়া

সার্ক গঠনের ব্যাপারে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবকে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর সম্মতির ভিত্তিতেই ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কের যাত্রা শুরু হয়। সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে চার্টার স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারত সার্ক গঠনের চূড়ান্ত সম্মতি দেয়।

১৯৮৫ সালে সার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সার্ককে ‘একটি বিশ্বাসের কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘আঞ্চলিক পরিচয়’ তৈরি করবে। তিনি জিয়াউর রহমানকে একজন ‘দূরদর্শী’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।

শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস আর জয়বর্ধনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমান সার্কের প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা’ বা মূল স্থপতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার যে বীজ জিয়াউর রহমান বপন করেছিলেন, এই শীর্ষ সম্মেলন তারই ফসল। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যখন প্রথম আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালই সবার আগে তাঁকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন।

সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের সার্ক সনদ (‘ঢাকা ডিক্লারেশন’) জিয়াউর রহমান সূচিত প্রক্রিয়াকে ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করে। এতে বলা হয়, জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও অগ্রগতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার যে ধারণা দিয়ে গেছেন, সেটাই সার্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক সার্কের মতো সংস্থা গঠনের জন্য জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে ‘দূরদর্শী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর এই উদ্যোগ একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে সাহায্য করেছিল।

১৯৯৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হন। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সার্ক নেতারা জিয়াউর রহমানকে এই আঞ্চলিক জোটের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ এবং ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তাঁদের বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও উন্নয়নের জন্য জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তার প্রশংসা করেন। এই অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০০৪ সালের সার্ক সম্মেলনে জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর ‘সার্ক অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৩তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো সার্ক চেয়ারপারসন হন। এই সম্মেলনে সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ জিয়াউর রহমানকে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁকে মরণোত্তর প্রথম সার্ক পদক প্রদান করেন। এই পুরস্কার গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান। এই শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা সার্কের ধারণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। প্রথম সার্ক পুরস্কারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত যথাযথ হয়েছে।