ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষা প্রশাসনে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়: এমপিওভুক্তি ও নিয়োগে অনিয়মের তোলপাড়

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হঠাৎ কর্মতৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে দেড় হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, গণবদলি ও বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একশ্রেণির কর্মকর্তা ও তাঁদের সিন্ডিকেট। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের রাতে শিক্ষা ক্যাডারের ৫২৫ জন কর্মকর্তার নজিরবিহীন বদলি ও পদায়ন এবং একই দিনে ২ হাজার ৭০৬ জনের পদোন্নতি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও আকর্ষণীয় পদগুলোতে পদায়নের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিবসহ মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), এনসিটিবি এবং নায়েমের মতো শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজা হচ্ছে। সম্প্রতি এনসিটিবি ও মাউশিতে যে চারজন পরিচালক ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে এনসিটিবির শিক্ষাক্রম বিভাগে নিয়োগ পাওয়া এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই শেষ সময়ে বড় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তড়িঘড়ি করে এমপিওভুক্তির প্রয়োজন ছিল না। যেখানে শিক্ষার মৌলিক সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আগের মতোই সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয় আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব নিয়ে সন্দেহ কাটছে না।

বর্তমানে মাউশি, এনসিটিবি ও নায়েমের প্রধান পদগুলো শূন্য থাকায় সেখানে পছন্দের লোক বসানোর তোড়জোড় চলছে। এনসিটিবির বর্তমান চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তাঁরা যোগ্য লোক খুঁজছেন এবং এ বিষয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে শিক্ষা প্রশাসনের এমন অস্বাভাবিক তৎপরতা জনমনে ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিমানবন্দরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আটক: হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি

শিক্ষা প্রশাসনে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়: এমপিওভুক্তি ও নিয়োগে অনিয়মের তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হঠাৎ কর্মতৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে দেড় হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, গণবদলি ও বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একশ্রেণির কর্মকর্তা ও তাঁদের সিন্ডিকেট। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের রাতে শিক্ষা ক্যাডারের ৫২৫ জন কর্মকর্তার নজিরবিহীন বদলি ও পদায়ন এবং একই দিনে ২ হাজার ৭০৬ জনের পদোন্নতি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও আকর্ষণীয় পদগুলোতে পদায়নের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিবসহ মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), এনসিটিবি এবং নায়েমের মতো শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজা হচ্ছে। সম্প্রতি এনসিটিবি ও মাউশিতে যে চারজন পরিচালক ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে এনসিটিবির শিক্ষাক্রম বিভাগে নিয়োগ পাওয়া এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই শেষ সময়ে বড় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তড়িঘড়ি করে এমপিওভুক্তির প্রয়োজন ছিল না। যেখানে শিক্ষার মৌলিক সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আগের মতোই সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয় আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব নিয়ে সন্দেহ কাটছে না।

বর্তমানে মাউশি, এনসিটিবি ও নায়েমের প্রধান পদগুলো শূন্য থাকায় সেখানে পছন্দের লোক বসানোর তোড়জোড় চলছে। এনসিটিবির বর্তমান চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তাঁরা যোগ্য লোক খুঁজছেন এবং এ বিষয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে শিক্ষা প্রশাসনের এমন অস্বাভাবিক তৎপরতা জনমনে ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।