ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি: অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কি তবে গুরুত্বহীন?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্বীকৃত প্রথা অনুযায়ী তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) দেওয়া প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও, এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা ডিজিটাল নিরাপত্তা পাস নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ঘিরে সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের মতে, সচিবালয়ে কাজের জন্য পিআইডির কার্ডই যথেষ্ট। নতুন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা পাসের বাধ্যবাধকতা গণমাধ্যমের স্বাধীন চলাচলকে সংকুচিত করার একটি সূক্ষ্ম কৌশল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পেশাদার সাংবাদিকরা।

রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে গত বছরের শেষ দিকে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে সাংবাদিকদের প্রবেশে দফায় দফায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর নতুন প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও জটিলতা কাটেনি। বর্তমানে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পাসের জন্য আবেদন করতে বলা হচ্ছে, যা অনেক সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠনের দৃষ্টিতে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দেয়াল।

সচিবালয়কেন্দ্রিক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম’ (বিএসআরএফ) এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আগের নিয়মেই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে প্রবেশ করা যাবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা পাস দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে আলাদা আবেদন ফরম তৈরি করেছে এবং ডিজিটাল কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পেশাদার সাংবাদিকদের আশঙ্কা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পাস দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে পিআইডির প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। কারণ, শুধু অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকলেই এই পাস পাওয়া যাবে না; প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমিত কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। প্রবীণ সাংবাদিকরা মনে করেন, এই ধরনের দ্বৈত কার্ড ব্যবস্থা সাংবাদিকদের কাজের গতি কমিয়ে দেবে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ সচিবালয় একটি কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন)ভুক্ত এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, পেশাদার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কড়াকড়ি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবিলম্বে এই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা করা না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী সংসদীয় এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি: প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি: অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কি তবে গুরুত্বহীন?

আপডেট সময় : ১২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্বীকৃত প্রথা অনুযায়ী তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) দেওয়া প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও, এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা ডিজিটাল নিরাপত্তা পাস নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ঘিরে সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের মতে, সচিবালয়ে কাজের জন্য পিআইডির কার্ডই যথেষ্ট। নতুন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা পাসের বাধ্যবাধকতা গণমাধ্যমের স্বাধীন চলাচলকে সংকুচিত করার একটি সূক্ষ্ম কৌশল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পেশাদার সাংবাদিকরা।

রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে গত বছরের শেষ দিকে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে সাংবাদিকদের প্রবেশে দফায় দফায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর নতুন প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও জটিলতা কাটেনি। বর্তমানে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পাসের জন্য আবেদন করতে বলা হচ্ছে, যা অনেক সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠনের দৃষ্টিতে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দেয়াল।

সচিবালয়কেন্দ্রিক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম’ (বিএসআরএফ) এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আগের নিয়মেই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে প্রবেশ করা যাবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা পাস দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে আলাদা আবেদন ফরম তৈরি করেছে এবং ডিজিটাল কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পেশাদার সাংবাদিকদের আশঙ্কা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পাস দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে পিআইডির প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। কারণ, শুধু অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকলেই এই পাস পাওয়া যাবে না; প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমিত কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। প্রবীণ সাংবাদিকরা মনে করেন, এই ধরনের দ্বৈত কার্ড ব্যবস্থা সাংবাদিকদের কাজের গতি কমিয়ে দেবে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ সচিবালয় একটি কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন)ভুক্ত এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, পেশাদার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কড়াকড়ি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবিলম্বে এই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা করা না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে।