বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি দানিসুর রহমান লিমনকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে লিমনকে জোরপূর্বক আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং নারী সংক্রান্ত একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রবিবার রাতে লিমন তার নিজ এলাকা গারুড়িয়া ইউনিয়ন থেকে কাজ শেষে ফিরছিলেন। এ সময় স্থানীয় জলিল খা তাকে চা পানের জন্য ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পর তার হস্তক্ষেপে লিমনকে উদ্ধার করা হয় এবং থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে জনৈক জাহাঙ্গীর খান বাদী হয়ে লিমনের বিরুদ্ধে একটি শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বাদী নিজে মামলা করতে আগ্রহী না থাকলেও থানার ওসি আদিল হোসেনের চাপে পড়ে তিনি এই মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। এমনকি মামলা দায়েরের পর বাদী জাহাঙ্গীর খান নিজেই মামলা না করার এবং আপস-মীমাংসার অঙ্গীকারনামা থানায় জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমন জানিয়েছেন, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটি চক্রের রোষানলে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সংবাদকর্মীকে এভাবে নির্যাতন করে আটকে রাখা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও তাদের নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হাসানও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, জনৈক জাহাঙ্গীর খান বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার ঘটনায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















