ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার মামলায় আসামি এক সাংবাদিক, উদ্বেগ প্রকাশ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে আসামি করাকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকের দাবি, তিনি ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত রোববার সকালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর একদল ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার সময় তাকে মারধরও করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর সোমবার প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও আট থেকে নয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে হামলা ও চাঁদা দাবির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় স্টার নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি মিরাজ সিকদারকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, আশিক বেপারী, সাহিন মাদবর, মিঠু শিকদার, শাহ আলম, ইপ্তি সরদার ও আলিফ সিকদারসহ আরও কয়েকজন।

তবে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় সাংবাদিক মিরাজ সিকদার অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হামলা বা চাঁদাবাজির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়নি বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মিরাজ সিকদার বলেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছি। এর বাইরে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না। এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

একজন গণমাধ্যমকর্মীকে মামলার আসামি করায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার একটি অপচেষ্টা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার মামলায় আসামি এক সাংবাদিক, উদ্বেগ প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে আসামি করাকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকের দাবি, তিনি ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত রোববার সকালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর একদল ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার সময় তাকে মারধরও করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর সোমবার প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও আট থেকে নয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে হামলা ও চাঁদা দাবির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় স্টার নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি মিরাজ সিকদারকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, আশিক বেপারী, সাহিন মাদবর, মিঠু শিকদার, শাহ আলম, ইপ্তি সরদার ও আলিফ সিকদারসহ আরও কয়েকজন।

তবে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় সাংবাদিক মিরাজ সিকদার অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হামলা বা চাঁদাবাজির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়নি বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মিরাজ সিকদার বলেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছি। এর বাইরে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না। এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

একজন গণমাধ্যমকর্মীকে মামলার আসামি করায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার একটি অপচেষ্টা।