রাজধানীতে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মাঝে মিরপুর রোডে অবস্থিত গণভবনের সামনের ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপের ভালভ প্রতিস্থাপন করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে এই আংশিক স্বস্তি ঢাকাবাসীর চার দিনের তীব্র ভোগান্তির অবসান ঘটাতে পারেনি। তুরাগ নদের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত মূল পাইপলাইনটি এখনও মেরামত না হওয়ায় রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গণভবনের সম্মুখে ক্ষতিগ্রস্ত চার ইঞ্চি ব্যাসের ভাল্ভটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। নেটওয়ার্কে গ্যাসের চাপ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে এই মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভাল্ভ বন্ধ করায় ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়।
গত ৭ জানুয়ারি একটি নোঙরের আঘাতে তুরাগ নদের নিচে তিতাসের বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পাইপলাইনে পানি ঢুকে যাওয়ায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি। চার দিন পেরিয়ে গেলেও এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি সচল না হওয়ায় ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় চুলা জ্বলছে না। বিশেষ করে গাবতলী থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকায় গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। অন্যান্য এলাকায় গ্যাসের আগুন নিভু নিভু অবস্থায় থাকায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় রাজধানীবাসীর একটি বড় অংশ ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ সারছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে রেস্টুরেন্ট বা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। যারা পাইপলাইনের গ্যাসের বদলে এলপিজি ব্যবহার করেন, তারাও বর্তমানে সংকটে পড়েছেন। বাজারে এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























